আর্থিক অনিয়ম, অব্যবস্থা আর বিতর্ক,বিপিএলের নাম উঠলেই এ শব্দগুলো যেন বারবার ফিরে আসে।
সেই কলঙ্ক ঘোচাতে এবারে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ।
বিদেশি স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করতে চাইলেও তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল এবার যে কঠিন শর্তে ফ্র্যাঞ্চাইজি স্বত্ব বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু করেছে, তাতে বোঝাই যাচ্ছে তারা এবার কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না।
বিসিবি জানিয়েছে, বিপিএলের আগামী পাঁচ আসরের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজি বিক্রি করা হবে।
আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর বার্ষিক আয় থাকতে হবে অন্তত ১০০০ কোটি টাকা, আর বিপণন, ব্র্যান্ডিং ও কর্পোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতায় বছরে খরচের প্রমাণ দিতে হবে অন্তত ১০০ কোটি টাকার।
তামাক, বেটিং, মাদক বা অ্যালকোহল সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান এই দৌড়ে অংশ নিতে পারবে না।
প্রথম বছরে ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি নির্ধারিত হয়েছে ২ কোটি টাকা, যা প্রতি বছর ১৫ শতাংশ করে বাড়বে।
দল পরিচালনার ন্যূনতম ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ কোটি টাকা এবং ১০ কোটি টাকার ছয় মাস মেয়াদি নিঃশর্ত ব্যাংক গ্যারান্টি দিতে হবে।
তবে এর বিপরীতে আয়ও কম নয়। বিসিবির দেওয়া সম্ভাব্য খতিয়ান অনুযায়ী, প্রথম মৌসুমে একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি আয় করতে পারে প্রায় ৭.৮৫ কোটি টাকা।
এই আয়ের উৎস হিসেবে রয়েছে জার্সি স্পনসর থেকে অন্তত ৪ কোটি, বিসিবির লভ্যাংশ ভাগ থেকে ১.০৫ কোটি, ডিজিটাল পেরিমিটার বিজ্ঞাপন থেকে ২ কোটি এবং মার্চেন্ডাইজ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে আরও ৮০ লাখ টাকা।
পাশাপাশি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলগুলো পাবে টিকিট বিক্রি ও মিডিয়া স্বত্ব থেকে ৩০ শতাংশ, ইন-স্টেডিয়াম বিজ্ঞাপন থেকেও ৩০ শতাংশ আয় ভাগ।
বিসিবির হিসাব অনুযায়ী, বিপিএলে অংশ নেওয়া একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রথম বছর আয় করতে পারবে প্রায় ৮ কোটি টাকা, আর টুর্নামেন্টের স্থিতিশীলতা ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ ঘটলে ৫ম বছরে সেই আয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ১৪ কোটি টাকায়।




