আইসিসি বরাবরই ভারতের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে,এমন অভিযোগ নতুন নয়।
তবে এবার সেই অভিযোগের সত্যতা প্রকাশ করেছেন সংস্থারই এক প্রাক্তন ম্যাচ রেফারি, ক্রিস ব্রড।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তাকে একাধিকবার ভারতের পক্ষে সিদ্ধান্ত দিতে চাপ দেওয়া হয়েছিল।
ব্রড বলেন, এক আন্তর্জাতিক ম্যাচে ভারত নির্ধারিত সময়ের তুলনায় তিন-চার ওভার পিছিয়ে ছিল। নিয়ম অনুযায়ী তাদের জরিমানা হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু ম্যাচ শেষে তাকে ফোন করে বলা হয়, ভারতকে যেন শাস্তি না দেওয়া হয়। কারণ “এটা ভারত”! ব্রড জানান, তিনি পরে কিছু অতিরিক্ত সময় যোগ করে জরিমানার সীমা থেকে ভারতকে বাঁচান।
তিনি আরও জানান, পরের ম্যাচেও একই রকম ঘটনা ঘটে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খেলা শেষ না করায় ব্রড আবারও চাপের মুখে পড়েন।
তাকে জানানো হয়, গাঙ্গুলীকে শুধু জরিমানা করলেই চলবে, কঠোর ব্যবস্থা না নিতে।
এই ঘটনার পর থেকেই ক্রিকেটে ভারতের প্রভাব নিয়ে সমালোচনা আরও জোরদার হয়।
সামাজিক মাধ্যমে অনেকেই আইসিসিকে ব্যঙ্গ করে “ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল” বলে উল্লেখ করেন। কারণ, সংস্থাটির বড় অংশের রাজস্বই আসে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড থেকে।
আইসিসির ২০২৪-২৭ বাণিজ্যিক মেয়াদে মোট আয়ের প্রায় ৩৮.৫ শতাংশ যাচ্ছে ভারতের ভাগে, যা বছরে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা।
ক্রিস ব্রডের মতে, আইসিসির ওপর এখন অনৈতিক প্রভাব খাটায় বিসিসিআই।
তিনি বলেন, “ভিনস ফন ডার বিজল থাকাকালে আমরা পেশাদার সহায়তা পেতাম, কিন্তু তিনি চলে যাওয়ার পর ব্যবস্থাপনা ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
এখন ভারতের হাতে অর্থ, প্রভাব ও ক্ষমতা, তারা নানা উপায়ে আইসিসিকে নিয়ন্ত্রণ করছে।
প্রতিষ্ঠানটি এতটাই রাজনৈতিক হয়ে পড়েছে যে, এর সঙ্গে আর থাকতে হয় না বলেই আমি খুশি।”
২০০৩ থেকে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ব্রড আইসিসির ম্যাচ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এই সময় তিনি ১২৩ টেস্ট, ৩৬১ ওয়ানডে ও ১৩৮ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন।
তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্নে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।




