জিততে হলে দরকার ছিল ৮ উইকেট। অপরদিকে ভারতীয় দলকে ৫০০ এর অধিক রান করতে হতো, নতুবা টিকে থাকতে হত পুরো দিন।
তবে একটিতেও সফল হয়নি তারা। উলটো ভারতীয় দলকে লজ্জা উপহার দিয়েই জয় তুলে নিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। ঘরের মাঠেই আফ্রিকানদের বিপক্ষে প্রতিরোধই করতে পারেনি ভারত।
আগের ম্যাচে ভারতের ব্যাটিং অর্ডারকে গুড়িয়ে দেন হার্মার। এ ম্যাচেও এই বোলারের বলে দিশেহারা ভারত।
ইডেন গার্ডেন্সে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮ উইকেট নেন হার্মার। আর এ ম্যাচে নেন ৯ উইকেট। এর মাঝে দ্বিতীয় ইনিংসেই হার্মারের স্বীকার ৬ উইকেট।
এই অফ স্পিনারের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ ভারতীয় দলের। এর সাথে মাহরেজ, জানসেন, মুথিয়াসোয়ামিদের বলে ভারত হারে ৪০০ এর অধিক রানে।
শেষ দিন ২ উইকেটে ২৭ রান নিয়ে খেলা শুরু করেছিল ভারত, তাদের হাতে ছিল ৮ উইকেট।
কিন্তু প্রথম সেশনের মাঝামাঝি সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার সিমন হারমার জোড়া আঘাত হানেন। এক ওভারেই তিনি কুলদীপ যাদব ও ধ্রুব জুরেলকে বিদায় করেন।
এরপর ঋশাভ পান্তকেও মাঠছাড়া করে হারমার ভারতকে প্রতিরোধ গড়ার আগেই ভেঙে দেন।
যদিও সাই সুদর্শন ও রবীন্দ্র জাদেজার কঠিন প্রতিরোধে ভারত কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা জাগায়।
প্রথম সেশন শেষে সুদর্শন ১৩৮ বলে ১৪ রানে এবং জাদেজা ৪০ বলে ২৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।
দ্বিতীয় সেশনের পঞ্চম বলেই এই জুটি ভেঙে যায়। সেনুরান মুথুসামির বলে এজ হয়ে এইডেন মারক্রামের হাতে ক্যাচ দেন সুদর্শন।
তিনি ১৩৯ বলে ১৪ রানে ফেরেন। এরপর ওয়াশিংটন সুন্দর ও জাদেজা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন ম্যাচ বাঁচানোর।
কিন্তু হারমারের বলে মারক্রামকে ক্যাচ দেন ওয়াশিংটন। এরপর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকলে মাত্র ৬৩ অভার খেলে ১৪০ রানে থামে ভারতের ইনিংস।
এই জয়ে ভারতকে সর্বোচ্চ রানে হারের লজ্জা উপহার দিলো দক্ষিণ আফ্রিকা। ২১ বছর আগে নাগপুরে ৩৪২ রানের হার টপকে ভারতকে ৪০০ রানে হারালো দক্ষিণ আফ্রিকা, যা ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের হার।
এর বাইরে ২৫ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতীয় দলকে করে হোয়াইটহোয়াশ, ইতিহাস আসে বাভুমার হাত ধরে। একই সাথে এক ম্যাচে ৯ ক্যাচ নিয়ে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ড করেন মার্করাম। রেকর্ডের এই ম্যাচ যেন ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য একটি কালো দিনই হয়ে থাকলো।




