একটা সময় বাংলাদেশের ম্যাচেও দেশী আম্পায়ারের মান নিয়ে ছিল প্রশ্ন। বাংলাদেশের ম্যাচেও অনেকে চাইতেন না দেশী আম্পায়ার।
তাদের মান, সিদ্ধান্ত ও মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে ছিল প্রশ্ন। এছাড়া বাংলাদেশের ম্যাচে দেশীয় আম্পায়ার দেখা গেলেও আন্তজার্তিক মঞ্চে তাদের দেখা যেতো কালেভদ্রে। এমনকি বয়সভিত্তিক পর্যায়েও দাড়ানোর সুযোগ হতোনা তাদের।
সেই বাংলাদেশের আম্পায়ারিং যেন এখন শীর্ষ পর্যায়ে দাপট দেখাচ্ছে।
প্রচলিত আছে বাংলাদেশের ব্যাপারে নাক উচু শীর্ষ ক্রিকেটীয় দেশের, তার মাঝে অন্যতম অষ্ট্রেলিয়া। কথা অসত্য নয় একদম, অজিরা বাংলাদেশের চেয়ে সিরিজ খেলে কালেভদ্রে। তার মাঝেও থাকে প্রটোকল, থাকে অনেক সিরিজ বাতিলের শঙ্কা।
অজিদের দেশে সিরিজ খেলা তো সোনার হরিণ। সেই অষ্ট্রেলিয়া তাদের তিন গুরুত্বপূর্ণ সিরিজে আম্পায়ারের দায়িত্বে এনেছে শরীফুদ্দৌলা সৈকতকে।
উইন্ডিজ অষ্ট্রেলিয়ার হাইভোল্টেজ ম্যাচে দায়িত্বে ছিলেন, এরপর ভারত অষ্ট্রেলিয়া লড়াইয়েও ছিলেন মাঠে ও তৃতীয় আম্পায়ার হিসেবে।
বর্তমানে আছেন ক্রিকেটের সবচেয়ে মর্যাদাপুর্ণ টেষ্ট সিরিজ এশেজে। সৈকত যে ভালো করছেন এবং নিজেকে সেরার কাতারে নিয়ে যাচ্ছেন, তার প্রমাণ যেন এটাই।
তবে শুধু সৈকত ভালো করছেন এমন নয়, অন্য আম্পায়াররাও বড় বড় জায়গায় সুযোগ পাচ্ছেন।
এই যেমন বাংলাদেশের আম্পায়ার গাজী সোহেল পরিচালনা করছেন আইএলটি২০ এর ম্যাচ। যে লীগে খেলে সবচেয়ে বেশি বিদেশী খেলোয়াড়, যাদের আসরে আছে টাকার ঝনঝনানি। সেই লীগের খেলায় শুরুর ম্যাচে আম্পায়ার বাংলাদেশের গাজী সোহেল।
অপরদিকে এশিয়া কাপে ভারত পাকিস্তান হাইভোল্টেজ ম্যাচে আম্পায়ার ছিলেন মাকসুদুর মুকুল। এর বাইরে আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আম্পায়ারের দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায় তাকে।
দেশের ক্রিকেটের জন্য এটা নানাদিকে সুসংবাদ বয়ে আনে। ঘরোয়া ক্রিকেটে আম্পায়ারিং বিতর্ক নতুন নয়।
আম্পায়ারদের মান, তাদের কল ও তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বছরের পর বছর ধরে৷ আর সেখানে সৈকত, সোহেল, মুকুলরা যেন আম্পায়ারদের নতুন মানদন্ড সেট করে দিচ্ছে।
এখন থেকে এই লাইনে আসা সহজ হবেনা কারো জন্যই। অপরদিকে দেশের ক্রিকেটের মান উজ্জ্বল হচ্ছে বড় মঞ্চে। যত বেশি বাংলাদেশ থেকে ক্রিকেটীয় কেউ বড় মঞ্চে সফল হবেন, তত বাড়বে অন্যদের সুযোগ।
আর তাতে বড় মঞ্চে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা বেশি হবে, বাংলাদেশের ক্রিকেটের হবে প্রসার। সব মিলিয়ে সৈকত, মুকুলরা দেশের ক্রিকেটের নতুন মানদন্ডই যেন সেট করে দিচ্ছেন।




