সর্বশেষ লিস্টএ আসরে ৩৩ গড়ে ৩৩০ রান করেন। নিজের খেলা সর্বশেষ ম্যাচে ৩৩ করেন।
যেখানে প্রতিপক্ষের বোলিং আক্রমণে ছিলেন হাসান মাহমুদ, খালেদ আহমেদ, নাজমুল অপুর মত বোলার। এমন পরিসংখ্যান অসাধারণ কিছু নয়।
কিন্ত এখনও ১৮ না পেরোনো একজনের জন্য টপ লেভেল ক্রিকেটে এমন ধারাবাহিকতা তার সক্ষমতার জানানই দেয়।
টপ লেভেল থেকে এসে বোধহয় বয়সভিত্তিক লেভেলের ক্রিকেটাকে সহজই দেখেন জাওয়দ।
এশিয়া কাপ ক্রিকেটেও রাখলেন সেটারই প্রমাণ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে করেছেন ৯৬ রান।
সেঞ্চুরি মিস করলেও বড় রানের সংগ্রহে দলের ভিত্তি এনে দিয়েছেন ঠিকই। একই সাথে ওপেনিংএ রিফাত বেগের সাথে করেন পার্টনারশিপ, এরপর জীবন, রিজানের ব্যাটে ফিনিশিং টাচ পায় বাংলাদেশ। পরের ম্যাচে বেগ ফিরে যান দ্রুত, তবে পথ হারাননি জাওয়াদ।
এবার জুটি গড়েন কালাম সিদ্দিকি এলিনের সাথে। কালাম ধীরগতিতে খেললেও জাওয়াদ ব্যাট চালান তরোয়ারের মত।
১৩১ রানের টার্গেট হলেও ব্যাট করেন ১০০ এর অধিক স্ট্রাইক রেটে। আর তাতেই ইনিংসের অর্ধেক অভার বাকি রেখে জয় পায় বাংলাদেশ। জাওয়াদ অপরাজিত থাকেন ৬৮ বলে ৭০ রান করে
জাওয়াদের ট্যালেন্ট যে শুধু রান করা, এমনটা মোটেও নয়। জাওয়াদ মুলত আলোচনায় এসেছেন আগ্রাসী ব্যাটিং দিয়ে।
অনুর্দ্ধ ১৯ লেভেলে ২৮ ম্যাচ খেলেও জাওয়াদের স্ট্রাইক রেট ১০০ এর অধিক। বাংলাদেশের লিস্ট এ ক্রিকেটের মত আসরে জাওয়াদ ব্যাট করেছেন ৯৫ স্ট্রাইক রেটে। অর্থ্যাৎ বোলারদের উপর চড়াও হয়ে খেলতেই ভালোবাসেন জাওয়াদ।
এর বাইরে আরো এক জিনিস আছে জাওয়াদের, যা নেই বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেটারের। চারদিকে শট খেলতে পারেন জাওয়াদ। লেগ সাইডের সাথে অফে সমান হারে বাউন্ডারি, সিঙ্গেল নিতে পারেন। কাট, ইনসাট আউট এর সাথে একদম কাভার মিড অফ দিয়ে ছক্কা হাকাতে পারেন। এমন একজন এবিলিটি সম্পন্ন ব্যাটসম্যান যেন খুজছে বাংলাদেশ দল।
পাওয়ার ক্রিকেট খেলা ব্যাটসম্যানদের গড় কম থাকে, এমন কথা প্রচলিত। তবে এমনটা সত্য নয় জাওয়াদের জন্য। অনুর্দ্ধ ১৯ পর্যায়ে তার গড়টা ৩৫, লিস্টএ ক্রিকেটে ৩৩। অর্থ্যাৎ বেশ ভদ্রস্ত গড়ই বলা যায় এটাকে।
নিসন্দেহ তাই ব্যাটিংএ বাংলাদেশের ক্রিকেটের বিগ থিং হওয়ার ক্যাপাবিলিটি জাওয়াদের আছে। এবার দেখা যাক, বিসিবি ধরে রাখতে পারে কিনা এই রত্নকে।




