৪ ওভার বল করে ২১ রান দিয়ে ১ উইকেট। না মীরপুরের কোনো মাঠে নয়,কিংবা রশিদ খানের পারফরম্যান্স নয়,বিগব্যাশে এটি বাংলাদেশের রিশাদ হোসাইনের আজকের বোলিং স্পেল!
মেলবোর্ন স্টার্সের বিপক্ষে আগের ম্যাচে বল হাতে কিছুটা খরুচে থাকার পর সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন রিশাদ হোসেন।
তবে এক ম্যাচের ব্যবধানেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন এই বাংলাদেশি লেগ স্পিনার। মেলবোর্ন রেনেগেডসের বিপক্ষে ম্যাচে আগের ভুলগুলো শুধরে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত ও হিসেবি বোলিং করেন নীলফামারির এই ক্রিকেটার।
সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর,তিনি তুলে নেন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিভাবান ব্যাটার জ্যাক ফ্রেশার ম্যাকগার্কের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট।
ভিক্টোরিয়ার কার্দিনিয়া পার্কে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় মেলবোর্ন রেনেগেডস। পঞ্চম ওভারে প্রথমবারের মতো রিশাদকে আক্রমণে আনেন হোবার্ট হারিকেন্সের অধিনায়ক নাথান এলিস।
প্রথম ওভারে একটি বাউন্ডারি হজম করলেও বড় কোনো ক্ষতি হতে দেননি রিশাদ, খরচ করেন ৭ রান। সপ্তম ওভারে দ্বিতীয়বার বল হাতে নিয়েও একই পরিমাণ রান দেন তিনি, এবারও একটি চার আসে সেই ওভারে।
তবে তৃতীয় স্পেলে এসে নিজেকে আরও গুছিয়ে নেন রিশাদ। দলীয় ১১তম ওভারে নিজের তৃতীয় ওভারটি করেন তিনি, যেখানে দারুণ নিয়ন্ত্রণ দেখিয়ে মাত্র ৩ রান দেন।
ফলে প্রথম তিন ওভারে ১৭ রান খরচ হলেও তখনও উইকেটের দেখা পাননি এই লেগ স্পিনার। কিন্তু ধৈর্য হারাননি রিশাদ।
অবশেষে নিজের শেষ ওভারেই ম্যাচে প্রভাব ফেলেন তিনি। ১৪তম ওভারের তৃতীয় বলে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান হিসেবে পরিচিত জ্যাক ফ্রেশার ম্যাকগার্ককে বোল্ড করে ফেরান রিশাদ।
ম্যাকগার্ক তখন ৭ রান করেছিলেন। ওই ওভার থেকে রেনেগেডসের ব্যাটাররা নিতে পারেন মাত্র ৪ রান। সব মিলিয়ে রিশাদের বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড়ায় ৪ ওভারে ২১ রান দিয়ে ১ উইকেট।
চলতি বিগ ব্যাশে এটি রিশাদের তৃতীয় ম্যাচ। ১৬ ডিসেম্বর সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টে অভিষেক হয় তার।
প্রথম ম্যাচে ৩ ওভারে ১৮ রান দিলেও উইকেট পাননি। পরের ম্যাচে স্টার্সের বিপক্ষে ২ উইকেট পেলেও ৩ ওভারে ৩৩ রান খরচ করতে হয় তাকে। অবশেষে তৃতীয় ম্যাচে প্রথমবারের মতো ৪ ওভারের পূর্ণ কোটা শেষ করলেন তিনি।
এই ম্যাচে হোবার্টের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন ক্রিস জর্ডান। ইংলিশ এই পেসার ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট।
রিশাদ ও জর্ডানদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রানে থামে মেলবোর্ন রেনেগেডস।
যা সহজেই নিয়ে জয়সহ মাঠ ছাড়ে রিশাদরা।




