এর আগে সর্বশেষ মাঠে নেমেছিলেন ৬ দিন। সর্বশেষ উইকেট পেয়েছিলেন গত বছরে। যদিও সর্বশেষ দুই ম্যাচেও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন রিশাদ।
ভাগ্য ভালো থাকলে উইকেটটাও পেতে পারতেন। তবে মনে হচ্ছিল রিশাদের যেই জাদুটা নেই অনেকদিন ধরেই।
এর সাথে লম্বা বিরতি আর বিপিএলের ধামাকা রিশাদকে প্রায় ভুলিয়ে দিয়েছিল।
তবে রিশাদ নিজেকে আবারো মনে করালো নিজের পারফর্মেঞ্চ দিয়ে৷ হোবার্টের হয়ে মাঠে নেমে আবারো দলের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহক রিশাদ হোসেন।
আর তাতে রেকর্ডের পাতায় নামও লেখালেন রিশাদ। বিগ ব্যাশে বাংলাদেশী খেলোয়াড়দের মাঝে এখন সর্বোচ্চ উইকেট বাংলার এই লেগীর, ভাঙলেন সাকিব আল হাসানের রেকর্ড।
আগে ব্যাটিং করে এদিন ১৭৩ রান করে হোবার্ট। জবাব দিতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং কলাপ্স করে প্রতিপক্ষ এডিলেট স্ট্রাইকার্স।
তবে ৫ম উইকেটে ইতালিয়ান মানেতিকে নিয়ে জুটি করেন লিয়াম স্কট। আর সেখানেই ইনিংস বড় করার আগে জুটি ভাঙেন রিশাদ।
তার দুর্দান্ত লেগ স্পিনে পরাস্ত করেন মানেতিকে। তার স্পিনে সুইপ শট খেলতে গিয়ে নিখিল চৌধুরির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন মানেতি।
এরপর সাতে নামা ইংলিশ অলরাউন্ডার জেমি অভারটনকে ফেরান রিশাদ। তার টিপিক্যাল লেগ স্পিনটা করেন, সাথে ছিল এক্সট্রা টার্ন।
বলের গতিটাও আনেন কমিয়ে। আর তাতে ডাউন দ্যা উইকেটে আসা অভারটন পুরোপুরি বোকা বনে যান। সহজ সুযোগ মিস করেননি উইকেটরক্ষক ওয়েড, স্টাম্পিং হয়ে ফিরে যান ব্যাটসম্যান, রিশাদ পান দ্বিতীয় উইকেট।
এরপর আরেক ইংলিশ তারকা লুক উডকে ফেরান রিশাদ। ফ্লাইট নিয়ে তাকে প্রলুদ্ধ করেন, উডও সেখানে খেলেন শট।
তবে লং অনের লম্বা বাউন্ডারির দিকে করেন শট। আর সেখানে আগেই প্রস্তত ছিলেন ফিল্ডার। রিশাদের ফাদা পাতে তাই ফিরে যান লুড উড।
এদিন শুরুর ২ অভারে ২১ রান দেন রিশাদ। শেষ পর্যন্ত রিশাদ দেন ৪ অভারে ২৬ রান, নেন ৩ উইকেট। বল শেষ করেন ৬.৫ ইকোনমিতে।
এই আসরে রিশাদের উইকেট ১১ টি। তাতে ছাড়িয়ে গেলেন সাকিব আল হাসানকে। বিগ ব্যাশের মঞ্চে মোট ৬ ম্যাচে ৯ উইকেট পান সাকিব।
এডিলেটের হয়ে পান দুই ম্যাচে ৩ উইকেট, মেলবোর্নের হয়ে পান ৪ ম্যাচে ৬ উইকেট। সাকিবের সেই রেকর্ডকে ভেঙে দিলেন রিশাদ।
আসরের সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকের তালিকায়ও আছেন সেরা দশে। হয়ত মাঝের দুই ম্যাচ উইকেটশুন্য না থাকলে সেরা নামটাও হতে পার রিশাদ হোসেন।
রিশাদ এখন পর্যন্ত যা করছেন, তার সবটাই গর্বের। রিশাদের ঘুর্ণিতে বিশ্ববাসী আরো পরাস্ত হোক, আগামী দিনে এটাই প্রত্যাশা করছে লাল সবুজের কোটি ভক্তরা।




