আইসিসির ভূমিকা নিয়ে এবার গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে ক্রিকেটের ‘বাইবেল’ খ্যাত উইজডেন।
ভারতেরই লেখক ও সাংবাদিক *সারা ওয়ারিস উইজডেনে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণী লেখায় আইসিসির দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন, যেখানে সরাসরি উঠে এসেছে ভারতকে বারবার বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ।
বিশ্বকাপ আয়োজন ও ভেন্যু নির্বাচন ঘিরে সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলোকে সামনে এনে সারা ওয়ারিস দেখিয়েছেন, কীভাবে একই ধরনের পরিস্থিতিতে ভিন্ন ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি।
তার মতে, আলাদা করে দেখলে এই সিদ্ধান্তগুলো হয়তো ব্যাখ্যা করা বা রক্ষা করা সম্ভব, কিন্তু ফলাফল একটাই দুই ক্ষেত্রেই সুবিধা পেয়েছে ভারত। আর সেটিকে কাকতালীয় বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
উইজডেনের প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উঠে এসেছে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার ঘটনা।
নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে খেলতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছিল। কিন্তু সেই উদ্বেগ আমলে না নিয়ে আইসিসি বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে টুর্নামেন্টে অন্তর্ভুক্ত করে।
বিষয়টি ক্রিকেট মহলে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের জন্ম দেয়।
অথচ অতীতে দেখা গেছে, ভারতের ক্ষেত্রে একই ধরনের পরিস্থিতিতে আইসিসি ছিল অনেক বেশি নমনীয়।
নিরাপত্তা কিংবা রাজনৈতিক কারণে ভারত অন্য দেশে খেলতে না চাইলে, ভেন্যু বদল করা হয়েছে বা নিরপেক্ষ ভেন্যু নির্ধারণে সম্মত হয়েছে আইসিসি।
সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে ভারতের ম্যাচগুলো দুবাইয়ে আয়োজনের সিদ্ধান্তকেও সামনে এনেছে উইজডেন।
সারা ওয়ারিস লেখায় স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন,
তিনি বলেন,
“দুই পরিস্থিতিকেই আলাদাভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে এবং হয়তো রক্ষা করাও সম্ভব। কিন্তু বাস্তবতা হলো-দুইবারই এক পক্ষ নিজের মতো সিদ্ধান্ত আদায় করে নিয়েছে। এটিকে কাকতালীয় বলা যায় না।”
উইজডেনের মতো মর্যাদাপূর্ণ প্রকাশনার এমন সমালোচনা ক্রিকেট প্রশাসনে নতুন করে আলোড়ন তুলেছে।
বিশেষ করে, যখন অভিযোগটি এসেছে একজন ভারতীয় সাংবাদিকের কলম থেকেই, তখন প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে উঠেছে,
আইসিসি কি সত্যিই নিরপেক্ষ, নাকি ক্ষমতাধর বোর্ডের ছায়ায় পরিচালিত এক প্রতিষ্টানমাত্র?




