অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বিগ ব্যাশ লিগের ২০২৫-২৬ আসরে বল হাতে অভাবনীয় দাপট দেখিয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসাইন।
বিশ্বের বাঘা বাঘা ক্রিকেটারদের পেছনে ফেলে বর্তমানে ফ্যান র্যাটিংয়ের শীর্ষে উঠে এসেছেন হোবার্ট হারিকেনসের এই তারকা।
ইএসপিএন ক্রিকইনফোর সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি আসরে ১২টি ম্যাচ খেলে ৭.৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে তালিকার এক নম্বরে অবস্থান করছেন রিশাদ।
অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্যি যে, দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অজি কিংবদন্তি স্টিভেন স্মিথ যার র্যাটিং ৭.৬, কিংবা তৃতীয় স্থানে থাকা ইংলিশ অলরাউন্ডার স্যাম কারানের ৭.৪,তাদের মতো বিশ্বখ্যাত ক্রিকেটারদের চেয়েও রিশাদের পারফরম্যান্স দর্শক ও সমর্থকদের কাছে অধিক সমাদৃত হয়েছে।
এমনকি ফিন অ্যালেন, মার্কাস স্টয়নিস ও মিচেল স্টার্কের মতো টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের পোস্টার বয়রাও রিশাদের জনপ্রিয়তার কাছে নতি স্বীকার করেছেন।
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রধান বিজ্ঞাপন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন সাকিব আল হাসান। তবে সাকিবের উত্তরসূরি হিসেবে বিশ্বমানের মঞ্চে দাপট দেখানোর মতো যোগ্য ক্রিকেটারের অভাব যখন দেশের ক্রিকেট ভক্তরা বোধ করছিলেন, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন রিশাদ।
অস্ট্রেলিয়ার মতো বৈরী কন্ডিশনে, যেখানে পিচ সাধারণত ব্যাটারদের অনুকূলে থাকে, সেখানে একজন লেগ-স্পিনার হিসেবে রিশাদের এমন আধিপত্য কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং পুরো বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়।
তার উইকেট টেকিং ডেলিভারি এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ডট বল দেওয়ার ক্ষমতা বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সাকিবের পর রিশাদই হতে চলেছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটের পরবর্তী বড় গ্লোবাল সুপারস্টার।
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই জমকালো মঞ্চে তার এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তিনি যে আগামীতে বিশ্বের সেরা লেগ-স্পিনারদের একজন হয়ে উঠবেন, তা এখন সময়ের দাবি মাত্র।
রিশাদের এই অগ্রযাত্রা কেবল বিগ ব্যাশেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন এক দিগন্তের সূচনা করেছে যা কোটি ভক্তকে আশাবাদী করে তুলছে।মুলত ক্রিকেটপ্রেমী বাংলাদেশীরাই যে রিশাদের এই র্যাটিংয়ে শীর্ষে থাকার কারন তা নিশ্চিত।




