স্পেনের ক্রীড়া অঙ্গনে বড় এক স্বীকৃতি পেলেন বার্সেলোনার ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনহা। জনপ্রিয় রেডিও সারের(ser) ভোটে তিনি নির্বাচিত হয়েছেন বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ। দীর্ঘ এক মৌসুম জুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, মাঠে নিরলস পরিশ্রম ও দলের প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার ফল হিসেবেই এই সম্মান পেয়েছেন তিনি। অনেকের চোখে এই পুরস্কার যেন রাফিনহার জন্য অনেক আগেই প্রাপ্য ছিল।
পুরস্কার জয়ের পর রাফিনহা স্পষ্ট করে বলেছেন, তার কাছে দলগত সাফল্যই সব সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ব্যক্তিগত স্বীকৃতির মূল্যও যে কম নয়, সেটাও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি। রাফিনহার ভাষায়, “দলের ট্রফিই আমার প্রথম অগ্রাধিকার, কিন্তু এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে ব্যক্তিগত পুরস্কারও গুরুত্ব বহন করে। আমি জানি কেমন একটা মৌসুম আমার কেটেছে, আবার এটাও জানি কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিল।”
এই বক্তব্যেই ফুটে উঠেছে রাফিনহার পরিণত মানসিকতা। মাঠের বাইরে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো বা কারা ভোট দিল, সেসব নিয়ে ভাবতে চান না তিনি। তার মতে, একজন খেলোয়াড় হিসেবে তিনি শুধু মাঠের ভেতরের পারফরম্যান্সের ওপরই মনোযোগ দেন। মাঠের বাইরে যা ঘটে, তাতে তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। শেষ পর্যন্ত ফলাফল যাই হোক না কেন, নিজের মৌসুম নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট।
তবে কথার ভেতর দিয়েই উঠে এসেছে এক ধরনের হতাশার সুর। রাফিনহার মতে, পুরো মৌসুমে তার পারফরম্যান্স অনেক ক্ষেত্রেই ন্যায্য মূল্যায়ন পায়নি। কিছু সিদ্ধান্ত যে অন্যায় মনে হয়েছে, সেটাও তিনি আড়াল করেননি। তবু এসব নিয়ে অভিযোগ না করে নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়াকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার।
এই সম্মান পাওয়ার পর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে রাফিনহা বলেন,” আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ। এই পুরস্কার আমার এবং আমার পরিবারের জন্য অনেক বড় একটি ব্যাপার। বার্সেলোনা ও কাতালোনিয়ার পক্ষ থেকে পাওয়া এই স্বীকৃতি আমার কাছে বিশেষ। এটি পাওয়া আমার জন্য বড় সম্মানের।”
পুরো মৌসুম জুড়ে গোল, সহায়তা এবং আক্রমণভাগে প্রাণচাঞ্চল্য এনে দলের বড় ভরসা ছিলেন রাফিনহা। হয়তো সব সময় আলো তার দিকে আসেনি, কিন্তু বর্ষসেরা ক্রীড়াবিদ হিসেবে এই স্বীকৃতি যেন সেই অবহেলারই জবাব। তাই প্রশ্ন থেকেই যায়, অবশেষে কি তিনি পেলেন তার যোগ্য সম্মান?




