গত আসরে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে জিতিয়েছেন একাধিক শিরোপা। দলকে লা লীগা জিতিয়েছেন, একইসাথে কোপা দেলরের শিরোপাও এনে দিয়েছেন।
চ্যাম্পিয়নস লীগেও দলকে নিয়ে গিয়েছিলেন শিরোপার কাছাকাছি। ৫০ এর অধিক গোল এসিস্ট করেছেন, লা লীগার ছিলেন সেরা খেলোয়াড়। সব আসরেই পারফর্ম করেছেন সমানতালে, স্টাটে যেন ছিলেন আরো আগানো।
এই আসরেও দলকে ভালোভাবেই লিড দিচ্ছেন রাফা। তবে ইঞ্জুরিতে ছিটকে যাচ্ছেন বারবার, আর সেখানে বড় ভুক্তিভুগী বার্সেলোনা দলই।
রাফাকে নিয়ে এই মৌসুমে তাদের জয় ৭২ ভাগ ম্যাচ, রাফাকে ছাড়া সে সংখ্যাটা ৬২ ভাগ। এর বাইরে গোল স্কোরিং এর দিক থেকেও রাফিনহার উপস্থিতি রাখে ইম্প্যাক্ট।
যেখানে রাফা থাকলে ম্যাচপ্রতি গোল আসে ২.৮৬ টি, রাফা ছাড়া সংখ্যাটা ২.৫ এর কম৷ ম্যাচপ্রতি পয়েন্টেও আসে পার্থক্য।
সবচেয়ে বড় পার্থক্য দেখা যায় বড় ম্যাচে। এই মৌসুমে বার্সেলোনা হেরেছে রিয়াল মাদ্রিদ, এথলেটিকো মাদ্রিদ, পিএসজি, চেলসির বিপক্ষে। সেখানে খেলেননি বার্সা তারকা রাফিনহা। আবার এই ব্রাজিলিয়ানকে নিয়ে বার্সেলোনা হারিয়ে দেয় রিয়াল মাদ্রিদ, এথলেটিকো মাদ্রিদ, নিউক্যাসেলের মত ক্লাবকেও।
গত আসরে দেখা যায় একই চিত্র। রাফার নৈপুণ্যে টানা ম্যাচ হারে রিয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ, বেনফিকার মত দলও হয় পরাস্ত। চ্যাম্পিয়নস লীগের সেমিফাইনালেও দল লড়াই করে রাফার কল্যাণে, তবে ডিফেন্সের ভুলে বারবার গোল করেও হারতে হয় দলকে।
এরপরও রাফাকে মুল্যয়ন করেনা বার্সেলোনা। কেননা তারা প্রাধান্য দেয় ইয়ামালকে।
স্পেনের নিজের খেলোয়াড় হওয়ায় লোকাল ফ্যানদের কাছে বেশি বেশি প্রচার করা হয় ইয়ামালের নাম।
আবার অনেক আর্জেন্টাইন বার্সা ফ্যানরাও রাফাকে দিতে চাননা কৃতিত্ব। ফলে ব্যালন থেকে শুরু করে ফিফার সেরা এগারো, বারবার অবাঞ্চিত থেকে যান রাফা। এই ব্রাজিলিয়ানকে দেওয়া হয়না প্রাপ্য সম্মাননা।
তবে সম্মান না দিলেও তার অভাব ঠিকই টের পায় তার ক্লাব। সর্বশেষ ম্যাচে এথলেটিকোর বিপক্ষে হালি হজমের লজ্জা পায় বার্সেলোনা, তাতে আরো একবার ফুটে উঠে রাফিনহার অভাব। ২৮ বছরের এই ব্রাজিলিয়ানের পারফর্মেঞ্চ ও ডেডিকেশনের অভাব নেই। তবে ফ্যান ফেভারিট না হওয়ায় থাকছেন অনেক লাইমলাইটের আড়ালেই। দিনশেষে এটা রাফিনহার জন্য হয়ে থাকছে অবিচার হয়েই।




