ভাবুনতো ৩ মিনিট খেলা দেখার জন্য আপনার খরচ করতে হচ্ছে প্রায় ১ কোটি টাকা! তবে শুধু ভাবনায় নয়,এমনই চড়া মুল্যের টিকিট বিক্রি হচ্ছে আসন্ন বিশ্বকাপ ফাইনালের জন্য।
আসন্ন বিশ্বকাপ ঘিরে ফুটবল বিশ্বে যেমন উত্তেজনা তুঙ্গে, তেমনি বাড়ছে খরচ নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনাও। বিশেষ করে ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্য ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
ফিফার অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্মে সম্প্রতি ফাইনালের চারটি টিকিট বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে, যেখানে প্রতিটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৮ কোটিরও বেশি। আগামী ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ স্টেডিয়ামি এ অনুষ্ঠিত হবে এই বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল ম্যাচ।
যদিও ফিফা সরাসরি টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করে না, তবে প্রতিটি পুনর্বিক্রয় লেনদেন থেকে তারা উল্লেখযোগ্য কমিশন পায়। ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই প্রায় ১৫ শতাংশ করে কমিশন নেওয়া হয়। ফলে এই চারটি টিকিট বিক্রি হলেই শুধুমাত্র কমিশন বাবদ কয়েক মিলিয়ন ডলার আয় করতে পারে সংস্থাটি।
শুধু টিকিটের দামই নয়, বিশ্বকাপ উপলক্ষে সামগ্রিক ব্যয়ও বেড়েছে বহুগুণ। হোটেল ভাড়া, যাতায়াত খরচ এবং ফ্যান জোনে প্রবেশ,সব ক্ষেত্রেই খরচ বেড়েছে চোখে পড়ার মতো। অনেক শহরে আবাসন খরচ চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে, যা সাধারণ সমর্থকদের জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওয়ালা। তার মতে, একসময় বিশ্বকাপ ছিল সর্বস্তরের মানুষের জন্য আনন্দের উৎসব, কিন্তু বর্তমানে তা ধীরে ধীরে সাধারণ দর্শকদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।
সমালোচনার মুখে পড়ে ফিফা কিছু উদ্যোগের কথা জানিয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, সীমিতসংখ্যক টিকিট তুলনামূলক কম মূল্যে বিভিন্ন দেশের জাতীয় ফুটবল সংস্থার মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ এবং পুনর্বিক্রয় ব্যবস্থার কারণে বিশ্বকাপ ঘিরে বাণিজ্যিকীকরণ বেড়েই চলেছে।
ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই এই পরিস্থিতিকে ‘লুটতরাজ’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। তাদের দাবি, খেলার সৌন্দর্য ও আবেগের চেয়ে ব্যবসায়িক দিকটাই এখন বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে, যা বিশ্বকাপের মূল চেতনার সঙ্গেই সাংঘর্ষিক।
তবে যদি মেসি, নেইমার,বা রোনালদোর মতো কেও বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে,তাহলে এই ২৮ কোটি টাকার টিকেটের মূল্য আরো বেড়েও যেতে পারে তখন,এমনটাই ধারনা অনেকের।




