ফুটবল খেলার সময়ই প্রাণ চলে গেলো এক ফুটবলারের।
নাইজেরিয়ার সাবেক আন্তর্জাতিক স্ট্রাইকার মাইকেল এনারামো আকস্মিক হৃদরোগজনিত সমস্যায় মাঠেই প্রাণ হারিয়েছেন। দেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, যা দেশজুড়ে ফুটবল মহলে গভীর শোকেরও সৃষ্টি করেছে।
৪০ বছর বয়সী এনারামো শুক্রবার কাদুনায় আয়োজিত একটি প্রীতি ম্যাচে অংশগ্রহণ করেন। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই, প্রায় পাঁচ মিনিটের মাথায়, তিনি হঠাৎ করে মাঠে লুটিয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
জাতীয় দলের জার্সিতে ১০টি ম্যাচ খেলা এনারামো ছিলেন নিরলস পরিশ্রম এবং কার্যকর গোল করার সক্ষমতার জন্য সুপরিচিত। তার ক্লাব ক্যারিয়ার বিস্তৃত ছিল তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, সৌদি আরব ও তুরস্কের বিভিন্ন লিগে। বিশেষ করে তিউনিসিয়ার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব এসপেরাঁস-এ তার সময়টি ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। সেখানে নিজের শারীরিক সক্ষমতা ও আক্রমণাত্মক দক্ষতার কারণে সমর্থকদের কাছে তিনি “ট্যাঙ্ক” নামে পরিচিতি লাভ করেন।
নাইজেরিয়া ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সানুসি এক বিবৃতিতে এনারামোর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে এটিকে দেশের ফুটবলের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, এনারামো ছিলেন দৃঢ় মানসিকতা ও প্রতিশ্রুতির প্রতীক, যিনি মাঠে অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন।
২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিষেকের পর ২০১০ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ গোল করে দলের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। যদিও পরবর্তীতে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দলে জায়গা পাননি।
উল্লেখ্য, আফ্রিকান ফুটবলে ম্যাচ চলাকালীন হৃদরোগজনিত কারণে ঘটা এমন ঘটনা অতীতে একাধিকবার ঘটেছে। ক্যামেরুনের মার্ক ভিভিয়েন ফোয়ে, আইভরি কোস্টের শেইক তিওটে এবং ঘানার রাফায়েল দ্বামেনা একই ধরনের ঘটনায় মাঠেই প্রাণ হারিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে পেশাদার ফুটবলারদের জন্য নিয়মিত ও বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা আরও কঠোরভাবে নিশ্চিত করা জরুরি।




