সর্বশেষ ২০২৩ সালে মাঠে নামেন ব্রাজিলের হয়ে। সেলেসাওদের হয়ে আন্তজার্তিক মঞ্চে গোল করেন তার আগের বছর। তবে গত ৩ বছর ধরে পেদ্রো নেই জাতীয় দলে। নাম্বার নাইন সংকটে থাকলেও পেদ্রোকে যেন ঠিক মনে ধরেনাই সেলেসাও ম্যানেজমেন্টের। তবে বর্তমানে যে পারফর্মেঞ্চ করছেন, তাতে ম্যানেজমেন্টের নজর কাড়তে বোধহয় বাধ্যই করবেন এই স্ট্রাইকার।
বর্তমানে ব্রাজিলের ক্লাবে ফ্ল্যামেঙ্গী এর হয়ে খেলছেন পেদ্রো। ব্রাজিলিয়ান লিগে তিনি নিয়মিত গোল করে যাচ্ছেন, পারফর্ম করে জেতাচ্ছেন দলকে।
তার খেলার ধরন একেবারে ক্লাসিক নাম্বার নাইনের মতো। বক্সের ভিতরে ভয়ংকর, পজিশনিং অসাধারণ, আর ফিনিশিংয়ে প্রায় নিখুঁত। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের জন্য তিনি এখন এক দুঃস্বপ্ন।
সর্বশেষ ম্যাচেও তিনি গোল করে দলকে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট এনে দিয়েছেন। ভাস্কো দ্যা গামার বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই গোল করেন তিনি, যে গোলে এগিয়ে যায় তার দল ফ্ল্যামেঙ্গো। শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র করে ব্রাজিলিয়ান দলটি। পেদ্রো হয়ে যান রক্ষাকর্তা।
তবে শুধু এই ম্যাচে জ্বলে উঠেছেন এমন নহ৷ নিয়মিত গোল করতে পারার দক্ষতা আছে এই স্ট্রাইকারের। মৌসুমে আট গোল করেছেন, এর মাঝে শেষ ৭ ম্যাচে করেছেন ৭ টি৷ এর সাথে আছে এক এসিস্টও।
এথলেটিকো এমজি, ফ্লুমিনেসের মত দলের বিপক্ষে করেন জোড়া গোল। এমনকি গোল করেন নেইমারের সান্তোসের বিপক্ষে। নিয়মিত গোল যেন ধারাবাহিকতারই প্রমাণ করে।
শুধুমাত্র এই মৌসুমে গোল করছেন এমনটা নয় মোটেও। গত ৬ মৌসুম ধরে ১৫ এর অধিক গোল করেছেন পেদ্রো।
এর মধ্যে ৩ বার করেছেন ৩০ এরও অধিক গোল, ২০ এর অধিক গোল করেছেন আরো একবার। অর্থ্যাৎ গোল করাকে অভ্যাসের মত বানিয়েছেন এই স্ট্রাইকার।
তবে প্রশ্ন একটাই,এই পারফরম্যান্স কি তাকে সরাসরি বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে দেবে?
ব্রাজিলের মতো তারকাখচিত দলে জায়গা পাওয়া সবসময়ই কঠিন। বিশেষ করে নাম্বার নাইনে আগের চেয়ে অপশন বেড়েছে সেলেসাওদের। তবে এই ফর্ম ধরে রাখতে পারলে জাতীয় দলের কোচের নজর এড়ানো তার জন্য সহজ হবে না। বিশেষ করে সামনে যখন বড় টুর্নামেন্ট, তখন এমন একজন ইন-ফর্ম স্ট্রাইকার যে কোনো দলের জন্য বড় সম্পদ হতে পারে। যদি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেন, তাহলে খুব দ্রুতই তাকে ব্রাজিলের জার্সিতে বড় মঞ্চে দেখা যেতে পারে। এখন দেখার বিষয়, পেদ্রোর এই গোলের ধারা কোথায় গিয়ে থামে। সমর্থকদের জন্য ব্রাজিল দলে তিনি হতে পারেন কিনা কাঙ্ক্ষিত স্ট্রাইকার।




