টেক্সাসের কাইলি ফিল্ডে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ প্রস্ততি একটু দেড়িতেই শুরু হলো। বিশ্বকাপের দিন পাচেক আগে এবার মাঠে নামলো আর্জেন্টিনা। এর সাথে একঝাক ইঞ্জুরি সমস্যা আর্জেন্টিনাকে নিয়ে বাড়িয়েছিল শঙ্কা। তবে সবকিছু মাঠের বাইরেই ফেলে রেখেছে আলভিসেলেস্তারা। মাঠে চিরচেনা ছন্দময় ফুটবলই খেলেছে আলভিসেলেস্তারা। আর সেখানেই হন্ডুরাসকে পরাস্ত করে তুলে নিতে পারে কাঙ্ক্ষিত জয়।
৪-৪-২ ফরমেশনে ফমক দিয়ে একাদশ সাজান স্কালোনি। একাদশে সুযোগ করে দেন বার্কো, পালাসিও, লো সেলসোদের। একইসাথে অভিষেক করেন রাইট ব্যাক আগস্তিন গিয়াও। কোচের আস্থার প্রতিদান রাখেন খেলোয়াড়রা, বিশেষ করে বার্কো ও গিয়াও শুরু থেকে ধরে রাখেন ম্যাচের টেম্পো।
তবে এর মাঝে এট্যাকাররাও তৈরি করে একের পর এক সুযোগ। বিশেষ করে আলমাদার ক্রস থেকে সুযোগ পান ওটামেন্ডি, তবে লাগাতে পারেননি কাজে। ফ্রিকিকেও গোল আদায় করতে পারেনি আর্জেন্টিনা দল। সিমিওনে দারুণ পজিশনে বল পেয়েও রাখতে পারেনি জালে।
তবে ৩৭ মিনিটে ডেডলক ভাঙে আর্জেন্টিনা দলের। এবার স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন লাউতারো মার্টিনেজ। ৩৫ মিনিটে হন্ডুরাসের মেলেন্দেস ডিবক্সে ফেলে দেন আর্জেন্টিনার এট্যাকার থিয়াগো আলমাদাকে। সেখান থেকেই পেনাল্টির বাশি বাজান রেফারি। যে পেনাল্টি নিতে এসে ভুল করেননি লাউতারো মার্টিনেজ। তার ডান পায়ের শট জায়গা করে নেয় পোষ্টের বাম কর্নারে। আর তাতেই লিড আর্জেন্টিনা দলের।
এক গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা দল। বিরতি থেকে ফিরে খেলার গতি আরো বাড়ায় তারা। সেখানে তৈরি হয় একের পর এক সুযোগ। আর সেই সুযোগটাই কাজে লাগান সিমিওনে। পেনাল্টি থেকে জয় পেলে হয়ত আক্ষেপ হয়ে থাকত দলের, তাই অসাধারণ এক গোল করলেন সিমিওনে। এ গোলে আর্জেন্টিনার খেলার ধরণ মুগ্ধ করবে সবাইকে।
মাঝমাঠ থেকে সুবিধা করতে না পেরে এবার ওয়াইড বল বাড়ানো হয় লাউতারো মার্টিনেজের দিকে। তবে ডিবক্সে সেখানে শট করে গোল নেওয়ার তেমন ছিল না জায়গা। আবার একজন মার্ক করেও তাকে। এই সময় স্পেস পেয়ে ডিবক্সে রান নেন সিমিওনে। সেখান থেকে দারুণ এক ব্যাকপাস দেন মার্টিনেজ, সেটাও অনেকটা নু লুক। এরপর নিজের গতি ও ফিজিক্যালিটি কাজে লাগান এথলেটিকো মাদ্রিদে খেলা সিমিওনে, সাথে ফিনিশিং ছিল টপ নচ। আর তাতেই লিড ডাবল আর্জেন্টিনার, ম্যাচে পায় পুর্ণ নিয়ন্ত্রণ।
দ্বিতীয় হাফে ম্যাক এলিস্টার, এঞ্জো, রোমেরোরা আসেন মাঠে। ফলে ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়নি হন্ডুরাস। একাধিক ফ্রিকিক পেলেও ভয় ধরানোর মত কোন আক্রমণ করতে পারেনি উত্তর আমেরিকান দলটি। ফলে গোল করা দূরে থাক, দীর্ঘসময় টার্গেটেই শট রাখতে পারেনি তারা। যে কারণে এমির বদলে একাদশে আসা মুসোর পড়তে হয়নি সেরকম চ্যালেঞ্জে। সহজেই জয় তুলে নেয় আর্জেন্টিনা দল।
সব মিলিয়ে ম্যাচকে ঘিরে প্রাপ্তির জায়গা বড় আর্জেন্টিনা দলের। স্কালোনির পরীক্ষা নিরীক্ষা লেগেছে কাজে, জ্বলে উঠেছেন অনেক তরুণ। আবার দলও পায় স্বস্তির জয়। যা বিশ্বকাপে দারুণ উজ্জীবিত করবে দলকে, স্কালোনিকেও দেয় বাড়তি অপশন।




