২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিল শিবিরের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়গুলোর একটি হলো নেইমার জুনিয়রের ফিটনেস।
ডান পায়ের কাফ ইনজুরিতে আক্রান্ত এই তারকা ফরোয়ার্ড দ্রুত সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরার লক্ষ্যে ব্যবহার করছেন নাসার প্রযুক্তি থেকে অনুপ্রাণিত অত্যাধুনিক ‘অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি ট্রেডমিল’, যা বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ক্রীড়া পুনর্বাসন ব্যবস্থাগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
বিশেষ এই যন্ত্রের মাধ্যমে খেলোয়াড়ের শরীরের ওজন কৃত্রিমভাবে আংশিক কমিয়ে দেওয়া হয়। ফলে দৌড়ানোর সময় পেশি ও জোড়াগুলোর ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
এর ফলে ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়া যেমন দ্রুত হয়, তেমনি পুনরায় চোট পাওয়ার ঝুঁকিও অনেকাংশে হ্রাস পায়।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নেইমার ইতোমধ্যে এই প্রযুক্তির সহায়তায় হালকা দৌড় ও ফিটনেস অনুশীলন শুরু করেছেন।
জাতীয় দলের মেডিকেল বিভাগ তার শারীরিক অবস্থার নিয়মিত মূল্যায়ন করছে এবং সর্বশেষ ইমেজিং পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পুনর্বাসন কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।
বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই অ্যান্টি-গ্র্যাভিটি ট্রেডমিল জনপ্রিয় একটি পুনর্বাসন প্রযুক্তি। বিশেষ করে ফুটবলার, বাস্কেটবল খেলোয়াড় ও অলিম্পিক অ্যাথলেটদের চোট কাটিয়ে দ্রুত প্রতিযোগিতামূলক খেলায় ফেরানোর ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতা ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে।
ব্রাজিলের কয়েকটি শীর্ষ ক্লাবও তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ইউনিটে এই প্রযুক্তি যুক্ত করেছে।
এদিকে ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি নেইমারের শারীরিক উন্নতিতে সন্তুষ্ট হলেও বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে তার অংশগ্রহণ নিয়ে এখনই কোনো নিশ্চয়তা দিতে চান না। চিকিৎসকদের অনুমোদন পাওয়ার পর ধাপে ধাপে বল নিয়ে অনুশীলনে ফিরবেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার।
বিশ্বকাপে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামতে যাওয়া ব্রাজিলের জন্য নেইমারের উপস্থিতি হতে পারে বড় শক্তির উৎস। তাই তার পুনর্বাসনের প্রতিটি ধাপ এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন কোচিং স্টাফ, চিকিৎসক দল এবং কোটি কোটি ব্রাজিল সমর্থক। বিশ্বকাপের মঞ্চে নেইমারের প্রত্যাবর্তন কেবল একজন খেলোয়াড়ের ফেরা নয়, বরং ব্রাজিলের শিরোপা স্বপ্নের অন্যতম প্রধান আশার প্রতীক।




