মরোক্কোর বিপক্ষে কাঙ্ক্ষিত জয় আসেনাই। তবে ফিফা র্যাংকিংএ আটে থাকা দলের বিপক্ষে ড্র এর ব্যাপারে সমালোচনার জায়গাটা ছিল মাত্রারিক্ত।
বিশ্বকাপের শুরুর ম্যাচে মরোক্কোর বিপক্ষে বেশ ভালোই লড়াই করেছিল ব্রাজিল দল। তবে ভাগ্যের জন্য আসেনি জয়। যে কারণে অনেকে দাবি করেছিলেন, ব্রাজিলের বিশ্বকাপ শেষ এখানেই।
মাত্র এক ম্যাচে ড্রতেই ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিয়ে দেন অনেকে। এমনকি পরের ম্যাচের প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও ব্রাজিলকে রাখেন পিছিয়ে।
তবে কথায় আছে আহত বাঘ ভয়ঙ্কর। ব্রাজিল নামে ভারে আগের মত নেই। তবে যেটা আছে সেটাও যেকোন প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ঙ্কর।
তবুও এই দলের জার্সির ওজন, ঐতিহ্য আর মানসিকতা এখনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি।আর সেটাই এবার টের পেলো হাইতি দল।ত
মরোক্কোর পরের ম্যাচের আগে অনেক বিশ্লেষকই হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলকে পিছিয়ে রেখেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা গিয়েছিল অসংখ্য কটাক্ষ। কিন্তু মাঠের ফুটবলে সব প্রশ্নের জবাব দিয়েছে ব্রাজিল।
হাইতির বিপক্ষে নিজেদের সামর্থ্যের পূর্ণ প্রদর্শন করে দারুণ এক জয় তুলে নেয় দলটি। শুধু তিন পয়েন্টই নয়, গোল ব্যবধানেও বড় সুবিধা আদায় করে নেয় ব্রাজিল। যে কারণে গোলের ব্যাবধানে মরোক্কোর থেকে এগিয়ে থেকে নাম্বার এক অবস্থানে উঠে এসেছে সেলেসাওরা।
জয়ের পরই বদলে গেছে পুরো সমীকরণ। যে দলটিকে এক ম্যাচ পরেই অনেকে বিদায় দিয়ে দিয়েছিলেন, সেই দলই এখন পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে। ফুটবলের সৌন্দর্যই এখানে, একটি ম্যাচে হতাশা, পরের ম্যাচেই উচ্ছ্বাস। বিশ্বকাপে জাপান, সৌদি আরব বা মিশরাও রুখে দিয়েছে বড় দলগুলোকে।
এমনকি কঙ্গো বা কেপে ভার্দেও দেয়নি ছাড়। তবে সেখানে সমালোচনা ছিল ব্রাজিলকে নিয়ে। সেই সমালোচনার জবাবটা এবার ফিরতি ম্যাচে দিলো সেলেসাওরা।
বিশ্বকাপের পথ এখনো অনেক বাকি। সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে ব্রাজিলের জন্য। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, এক ম্যাচ দেখে এই দলকে বিচার করা ভুল। ব্রাজিলকে কখনোই হিসাবের বাইরে রাখা যায় না। কারণ তারা এমন এক দল, যারা সমালোচনাকে শক্তিতে পরিণত করতে জানে। আর সেই কারণেই বিশ্বকাপের শুরুতে যাদের অনেকেই বিদায় বলে দিয়েছিলেন, তারাই এখন টেবিলের শীর্ষে দাঁড়িয়ে নতুন করে শিরোপার দাবিদার হিসেবে নিজেদের নাম ঘোষণা করছে। পরেরবার থেকে অতিরঞ্জিত সমালোচনার আগে এই বিষয়গুলো ভাবতে হবে সমালোচকদের।




