পুরো আসরে একাই আর্জেন্টিনা দলকে টেনেছে। আসরে আর্জেন্টিনা খেলেছে ৮ ম্যাচ। এই ৮ ম্যাচের মাঝে ৭ ম্যাচই গোল বা এসিস্ট পেয়েছেন লিওনেল মেসি। যে ম্যাচে আদায় করতে পারেননি গোল বা এসিস্ট, সেই ম্যাচেই হেরেছে আর্জেন্টিনা দল। বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির অবদান এরকমই।
আসরের শুরুর দুই ম্যাচে সব গোল এসিস্ট এসেছে মেসির পা থেকেই। এরপর নকআউটে কেপে ভার্দের বিপক্ষে দলকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া গোল। পরের ম্যাচে মিশরের বিপক্ষে সমতাসুচক গোল আসে মেসির পা থেকে। একই ম্যাচে রোমেরোর করা গোলেও এসিস্ট লিওনেল মেসির পা থেকে।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ড বাধা পার করে আর্জেন্টিনা। যেখানেও শুরুর গোলে এসিস্ট করেন এলএমটেন। সেমিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই গোলেই এসিস্ট মেসির। এর মাঝে তার উইক ফুট ডান পায়ের ক্রসে যেভাবে বল বানালেন লাউতারোর জন্য, সেটা থাকবে বিষ্ময় হয়েই।
আসরে ফাইনাল বাদে সবম্যাচেই উজ্জ্বল ছিলেন মেসি। ফাইনালে পুরো আর্জেন্টিনা দলই ছিল ব্যার্থ, পর্যাপ্ত বল আসেনি মেসির কাছে। অথচ পুরো আসরটা একাই ডমিনেট করেছে এলএমটেন।
অথচ এরপরও লিওনেল মেসির জোটেনি গোল্ডেন বলের পুরুষ্কার। নিজের দলের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি, সর্বোচ্চ এসিস্টদাতাও তিনি। গোল এসিস্টে আছেন দুই নাম্বার অবস্থানে। আবার গোলের দিক থেকেও আছেন দুই নাম্বারেও, এসিস্টেও আছেন সবার উপরে থাকা অলিসের পরে।
দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৪ বার টার্গেটে শট রেখেছেন, ৮৪ শট ছিল। এমনকি দলের সর্বোচ্চ ৩৪ ড্রিবলস, ৪২ চাঞ্চ ক্রিয়েট বা ১৩ বিগ চাঞ্চ ক্রিয়েট আসে মেসির থেকে। রেটিংএও সবার উপরে মেসির নাম। বিগ চাঞ্চ ক্রিয়েটে বিশ্বের সবার উপরে, চাঞ্চ ক্রিয়েটেও বিশ্বকাপে সবার উপরে মেসির নাম। আক্রমণে এত ভালো পারফর্ম করার পরও বিশ্বকাপের সেরা নন মেসি।
অথচ গোল এসিস্ট না করেও সবার সেরা রদ্রি। হয়ত রদ্রির পারফর্মেঞ্চের মানদন্ড গোল এসিস্টে না। কিন্ত আসরে মেসি যত ম্যাচে ম্যাচসেরা হয়েছেন, সেটা ছুতে পারেননি রদ্রি। এমনকি নিজের দলের অনেক রেকর্ডেও টপে নন এই মিডফিল্ডার। তবুও রদ্রিকেই সেরাএ এওয়ার্ড ফিফার, অবহেলা মেসির ক্ষেত্রে
শেষবেলায় এমন বিদায় তাই অবিচারই হলো মেসির জন্য। শেষটা গোল্ডেন বল প্রাপ্যই ছিল এই মহাতারকার জন্য। এমন পারফর্মেঞ্চ করে মেসির গোল্ডেন বল না পাওয়া তাই বিরল নজির হয়েই থাকবে, যা আঘাত করবে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের মন।




