ফিক্সিং আর ভারত যেন একজন আরেকজনের সাথে জড়িত ওতোপ্রোতোভাবে। আজহারউদ্দিন থেকে শ্রীশান্ত, অনেক নামকড়া ক্রিকেটার নিষিদ্ধ হয়েছেন এর দায়ে। এমনকি আইপিএলেও দল নিষিদ্ধ হয়েছে একাধিকবার। তবে এবার ভিনদেশে গিয়ে ফিক্সিং কান্ডে গ্রেপ্তার সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার, দেওয়া হয়েছে রিমান্ড।
লঙ্কা প্রিমিয়ার লীগ শুরুর আগেই ফিক্সিং কান্ডে গ্রেপ্তার হন সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার মানজৎ কারলা। ভারতীয় দলের হয়ে অনুর্দ্ধ ১৯ বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করেন কারলা, দলের হয়ে জিতেন বিশ্বকাপ। তবে সেখান থেকে আর্শদ্বীপ, শুভমান গিল, পৃথবী শরা পরিচিতি পেলেও তেমন ভালো করতে পারেননি কারলা। এরপর নতুন করে আলোচনায় এসেছেন লঙ্কা প্রিমিয়ার লীগে দল কিনে।
তবে সেখানে এসেও করেন লঙ্কাকান্ড। লঙ্কা প্রিমিয়ার লীগ শুরুর আগেই তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় শ্রীলঙ্কার পুলিশ। আকসু ও শ্রীলঙ্কার তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী ফিক্সিং এর অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে আসে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
পুলিশ জানায় জাফনা দলের তিন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে প্রস্তাব দেওয়া হয় ফিক্সিং এর। তারা হলেন মিডল অর্ডার ব্যাটার ভানুকা রাজাপক্ষ, অলরাউন্ডার দিনুথ ওয়ালালাগে ও ওপেনার আভিস্কা ফার্নান্দো। এরা তিনজনই নিয়মিত খেলে থাকেন শ্রীলঙ্কার হয়ে ।।এমনকি ম্যাচকে প্রভাবিত করতে ৩০ হাজার ডলার বা ৩৬ লক্ষ টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয় তাদের প্রতি।
তবে এই ব্যাপারে তারা রিপোর্ট করলেই গ্রেপ্তার হন কারলা। এমনকি পুলিশের কাছে ফোনের কনভার্সন ও ভিডিও প্রমাণ হিসেবেও রয়েছে। আরো তদন্তের জন্য কারলাকে দেওয়া হচ্ছে রিমান্ড। সেখানে ৩১ জুলাই পর্যন্ত রিমান্ড ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এই সাবেক ক্রিকেটারকে
আসরের অন্যতম সফল দল জাফনা কিংস। এবারের আসরেও শক্তিশালী দল গড়েছে তারা, এমনকি দলে আছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। ধারণা করা হচ্ছিল এই দলের দায়িত্ব নিয়ে নিজের নতুন পরিচয় খুজছেন কারলা। তবে শুরুতেই ফিক্সিং কান্ডে জড়িয়ে নিজেও যোগ দিলেন বিতর্কে, একইসাথে আরো এক কলঙ্ক যুক্ত করলেন ভারতীয় ক্রিকেটে।
ভারতীয় ক্রিকেটে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ইতিহাস নতুন নয়। মোহাম্মদ আজহারউদ্দিন, অজয় জাদেজা, এস. শ্রীশান্ত থেকে শুরু করে আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালস ও চেন্নাই সুপার কিংসের নিষেধাজ্ঞা, বিভিন্ন সময়ে এমন বিতর্ক ভারতীয় ক্রিকেটকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সেই তালিকায় এবার যোগ হলো মানজৎ কারলার নামও। একজন সাবেক অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ শুধু তার ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেনি, নতুন করে ভারতীয় ক্রিকেটের পুরোনো ক্ষতও সামনে নিয়ে এসেছে। সেখানে বিদেশে এসে ফিক্সিং করে এমন কান্ড দেশটিকে লজ্জার মুখেই ফেলবে।




