শ্রীলঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে ব্যাট হাতে ঝড় তুলে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করলো জাফনা। আর সেই জয়ের অন্যতম নায়ক বাংলাদেশের তাওহীদ হৃদয়।
শেষের ঝোড়ো ক্যামিওতে মাত্র ২১ বলে অপরাজিত ৫৪ রান করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তার দুর্দান্ত ইনিংসের সুবাদে সাকিব আল হাসানের দল জাফনা জায়গা করে নিয়েছে এবারের এলপিএলের ফাইনালে।
কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় গল গ্ল্যাডিয়েটর্স।
গলের একাদশে বাংলাদেশের নুরুল হাসান সোহান সুযোগ না পেলেও জাফনার হয়ে মাঠে নামেন সাকিব আল হাসান ও তাওহীদ হৃদয়।
বল হাতে ভাল সময় যায়নি আজ সাকিবের।তবে তার আগেই,
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল জাফনা। অভিষ্কা ফার্নান্দো ১৪ বলে ১৯ রান করে ফিরলেও এরপর কামিল মিশারা ও খাজা নাফে গড়ে তোলেন ১৩৮ রানের দুর্দান্ত জুটি। নাফে ৩২ বলে ৫৪ রান করে বিদায় নেন। তার ইনিংসে ছিল চারটি চার ও তিনটি ছক্কা।
দলীয় ১৭৩ রানে নাফে আউট হওয়ার পর অধিনায়ক ভানুকা রাজাপক্ষে নিজে নামার বদলে পাঠান তাওহীদ হৃদয়কে।
আর তাতেই যেন ম্যাচের চেহারা বদলে যায়। শুরু থেকেই গল বোলারদের ওপর চড়াও হন বাংলাদেশের এই ব্যাটার।
ঈশান মালিঙ্গার করা ১৯তম ওভারে টানা দুই ছক্কা হাঁকানোর পর শেষ ওভারে দাসুন শানাকাকেও ছাড় দেননি। ওই ওভারের প্রথম বলেই ছক্কা, পরে আরও একটি ছক্কা ও দুটি চার মেরে এক ওভার থেকেই তুলে নেন ২২ রান।
মাত্র ২০ বলে ফিফটি স্পর্শ করা হৃদয় শেষ পর্যন্ত ২১ বলে অপরাজিত ৫৪ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও পাঁচটি বিশাল ছক্কা।
২৫৭.১৪ স্ট্রাইক রেটে খেলা এই ইনিংসটি জাফনার সংগ্রহকে নিয়ে যায় ২০ ওভারে ২ উইকেটে ২৪২ রানের বিশাল পুঁজিতে। যদিও কামিল মিশারা ৫৫ বলে অপরাজিত ১০৮ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন, শেষের দিকে হৃদয়ের বিধ্বংসী ব্যাটিংই সবচেয়ে বেশি আলো কাড়ে।
২৪৩ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় গল। শূন্য রানেই ফিরে যান রজার্স।
এরপর হারপার ও চারিথ আসালাঙ্কা পাল্টা লড়াই গড়ে তুললেও ইতিহাস গড়া লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত লড়াই করেন করুনারত্নে ও শানকা তবে তবুও সহজ জয় তুলে নিয়ে সবার আগে ফাইনাল নিশ্চিত করে জাফনা।
ফলে এলপিএলের শিরোপা জয়ের লড়াইয়ে এবার মাঠে দেখা যাবে বাংলাদেশের দুই তারকা সাকিব আল হাসান ও তাওহীদ হৃদয়কে।




