১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপ। সেবার মেক্সিকোর এস্তাদিও আজকেতায় ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা দল। ম্যাচটা আর্জেন্টিনা জয় পায় ২-১ গোলে। তবে সেই ম্যাচের দুই গোলই ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছে।
শুরুর গোলটা ম্যারাডোনা করেন হাত দিয়ে। তার দিকে বাড়ানো বলে লাফ দিয়ে হেডের মত ভঙ্গি করলেও মুলত হাত দিয়েই বল জালে পাঠান এই তারকা।
ম্যাচ শেষে নিজের সেই গোল নিয়ে ম্যারাডোনা বিখ্যাত সেই মন্তব্য করেছিলেন, গোলটি হয়েছিল ‘ম্যারাডোনার মাথার একটু অংশ এবং ঈশ্বরের হাতের একটু অংশে।’
তবে এরপর দ্বিতীয় গোলে ম্যারাডোনা দেখান নিজের ম্যাজিক। মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একের পর এক তারকাকে কাটিয়ে এনে করেন গোল।
যে গোলটাকে সেই শতাব্দীর সেরা গোল হিসেবে স্বীকৃত দেওয়া হয়েছে। আর সেই গোলের পরই সেমিফাইনালে যায় আর্জেন্টিনা, পরবর্তী পায় বিশ্বকাপ
আলোচিত সেই ম্যাচের বল এবার তোলা হচ্ছে নিলামে। হ্যান্ড অফ গড ও শতাব্দীর সেরা গোলে ব্যাবহৃত বলকেই বিক্রি করা হচ্ছে এবার।
আর সেটাও বিক্রি করা হচ্ছে নিলামের মাধ্যমে। যেখানে একটা বলের দাম উঠতে পারে ১২০ কোটি টাকাও।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক নিলাম প্রতিষ্ঠান হেরিটেজ অকশনস আগামী ২১ থেকে ২৩ আগস্ট এই নিলামের আয়োজন করবে।
বলটির প্রাথমিক দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২৫ লাখ ডলার। তবে নিলাম প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশা, শেষ পর্যন্ত এর দাম ১ কোটি ডলারের ঘর ছাড়িয়ে যেতে পারে। আর সেটা বাংলাদেশের টাকায় হতে পারে ১২০ কোটি টাকা
হেরিটেজ অকশনসের ক্রীড়া বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড্যান ইমলার বলেছেন, বলটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্মারক।
তার ভাষায়, ওই ম্যাচে করা দুটি গোলই এতটা ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় যে বলটির গুরুত্ব আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
এদিকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দামি জার্সির রেকর্ডও ম্যারাডোনার দখলে। একই আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচে পরা ম্যারাডোনার জার্সিটি নিলামে ৯৩ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল।
হঠাৎ করে ৮৬ বিশ্বকাপের বল আলোচনার উঠার কারণও রয়েছে। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের ফুটবলীয় দ্বৈরথের সঙ্গে দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধের ইতিহাসও জড়িয়ে আছে।
বিশেষ করে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচটি সেই বিরোধের পর ছিল প্রথম বড় সাক্ষাৎ।
এর ৪০ বছর পর আবারো ইংলিশদের সাথে মাঠে নামে আর্জেন্টিনা, তাদের হারায় বিশ্বকাপে। এরপর ফকল্যান্ড নিয়ে চলছে বিস্তর উত্তেজনা। এর মাঝেই ম্যারাডোনার ঐতিহাসিক বলের নিলাম তার মুল্য দিচ্ছে বাড়িয়ে।
তবে ম্যারাডোনার জিনিসে যে মানুষের আগ্রহ তীব্রে, তা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। যে কারণে একটি বলও মানুষ কিনতে চাচ্ছে শত কোটি টাকার বেশি খরচ করে, এটাই যেন ভালোবাসা মানুষের।




