লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের এবারের আসরে বাংলাদেশের হয়ে ব্যাট হাতে দারুণ আলো ছড়িয়েছেন তাওহীদ হৃদয়।
টুর্নামেন্টে মাত্র পাঁচটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন এই বাংলাদেশি ব্যাটার।
দুর্দান্ত ব্যাটিং পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন এলপিএলের সেরা একাদশে।
তাওহীদ হৃদয়ের পারফরম্যান্সের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক ছিল তাঁর ধারাবাহিকতা ও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং।
পাঁচ ম্যাচে প্রায় দেড়শ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। এর মধ্যে বেশিরভাগ ইনিংসেই অপরাজিত ছিলেন।
ফলে তাঁর ব্যাটিং গড় দাঁড়িয়েছে ৭৫-এর ওপরে। একই সঙ্গে তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল প্রায় ২০০,যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তাঁর বিধ্বংসী ব্যাটিংয়েরই প্রমাণ দেয়।
কম ম্যাচ খেলেও এমন পরিসংখ্যান দিয়ে সেরা একাদশে জায়গা করে নেওয়া নিঃসন্দেহে হৃদয়ের জন্য বড় অর্জন।
বিশেষ করে এলপিএলের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে নিজের ছাপ রাখা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও আনন্দের খবর।
ক্রিকেটভিত্তিক বিশ্লেষণধর্মী প্ল্যাটফর্ম ক্রিকেইনফো প্রকাশিত এলপিএল ২০২৬-এর সেরা একাদশে হৃদয়ের সঙ্গে জায়গা পেয়েছেন লাহিরু উদারা, স্যাম হার্পার, কামিল মিশারা, চরিথ আসালাঙ্কা, অধিনায়ক কামিন্দু মেন্ডিস, দুনিথ ওয়েল্লালাগে, ওয়ানুজা সাহান, এশান মালিঙ্গা, লিজাড উইলিয়ামস ও নুয়ান থুশারা।
এই একাদশে হৃদয়ের অন্তর্ভুক্তি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাঁর সীমিত সুযোগের কারণে।
অন্যদিকে দলের অধিকাংশ ক্রিকেটার পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে পারফর্ম করার সুযোগ পেলেও হৃদয় মাত্র পাঁচ ম্যাচেই নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।
দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি উইকেটে টিকে থেকে ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করার সামর্থ্য তাঁকে আলাদা করে তুলেছে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে তাওহীদ হৃদয়কে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বড় প্রত্যাশা রয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও মাঝে মাঝে তাঁর ব্যাটে ঝলক দেখা গেছে।
এলপিএলের এই পারফরম্যান্স সেই প্রত্যাশাকে আরও বাড়াবে। বিশেষ করে প্রায় ২০০ স্ট্রাইক রেটে রান করার পাশাপাশি ৭৫-এর বেশি গড় দেখিয়ে হৃদয় বুঝিয়ে দিয়েছেন, সুযোগ পেলে টি-টোয়েন্টিতে তিনি কতটা কার্যকর হতে পারেন।
মাত্র পাঁচ ম্যাচেই সেরা একাদশে জায়গা করে নেওয়া তাই হৃদয়ের জন্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও গর্বের মুহূর্ত।




