বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার স্বপ্ন পূরণ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে গিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতায় সেই সুযোগ হারিয়েছিলেন সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতান।
তবে সেই হতাশা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। এবার ইউরোপের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ফুটবল ম্যাচ উয়েফা সুপার কাপ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ইউরোপের বাইরে জন্ম নেওয়া প্রথম রেফারি হিসেবে এই ম্যাচ পরিচালনার ইতিহাস গড়তে যাচ্ছেন ওমর।
বিশ্বকাপের রেফারি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর মায়ামি বিমানবন্দরে তাকে আটকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল বলে জানা যায়।
মুসলিম পরিচয়ের কারণে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি,এমন অভিযোগও ওঠে। ফিফার এলিট রেফারির সঙ্গে এমন আচরণ নিয়ে তখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছিল।
বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ হারিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ভেঙে পড়েছিলেন ওমর। তবে ক্যারিয়ারের সেই কঠিন অধ্যায়কে পেছনে ফেলে এবার পেয়েছেন আরও বড় স্বীকৃতি।
উয়েফা সুপার কাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব পাওয়াকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে দেখছেন তিনি।
নিজের সেই কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে ওমর বলেন, ‘সময়টা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার স্বপ্ন দেখেছি। সেখানে সুযোগ পেয়েও দায়িত্ব পালন করতে না পারা সত্যিই হতাশাজনক ছিল। তবে আমি চেষ্টা চালিয়ে গেছি। যারা কঠিন সময়ে আমাকে সমর্থন করেছেন, তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
নতুন এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত ওমর নিজের শৈশব ও বেড়ে ওঠার নানা প্রতিবন্ধকতার কথাও তুলে ধরেছেন।
তার ভাষায়, ‘আমি নিজেকে খুব ভাগ্যবান মনে করি। এমন একটি জায়গায় জন্ম ও বেড়ে ওঠার পরও কখনো স্বপ্ন থেকে সরে যাইনি।
আজকের এই অবস্থান প্রমাণ করে, সেই প্রতিবন্ধকতাগুলো আমার স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারেনি। এই খবরটি আমার ও আমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত আনন্দের।’
ওমরের এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত সোমালিয়ার মানুষও। ইউরোপ ও অস্ট্রিয়ায় বসবাসরত সোমালিদের মধ্যেও তাকে ঘিরে ব্যাপক আনন্দ তৈরি হয়েছে।
বিশ্বকাপের বঞ্চনা পেরিয়ে এবার ইউরোপের মঞ্চে ইতিহাস গড়ার সুযোগ,ওমর আরতানের ক্যারিয়ারে এটি নিঃসন্দেহে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা।




