২০২৬ বিশ্বকাপের পর এবার ২০৩০ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দল পুনর্গঠনের পথে হাঁটছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি।
নতুন এই পরিকল্পনায় ব্যক্তিগত তারকাখ্যাতির চেয়ে দলীয় পারফরম্যান্সকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
২০২৬ বিশ্বকাপে নেইমারকে ব্রাজিল দলে দেখতে চেয়েছিলেন আনচেলত্তি,আর হয়েছেও তাই। এখন সেই অধ্যায় পুরোপুরি পেছনে ফেলে ভবিষ্যতের দিকে তাকাচ্ছেন ইতালিয়ান এই কোচ। তার ভাষায়, নেইমারের মতো খেলোয়াড়ের কোনো বিকল্প নেই।
নিজের অসাধারণ সামর্থ্যের কারণে বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন তিনি। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আর না ফেরার সিদ্ধান্ত নেইমার নিজেই নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আনচেলত্তি।
নেইমারকে নিয়ে এমন বক্তব্যের পাশাপাশি ব্রাজিলের দল গঠন নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন আনচেলত্তি। তারকা ফুটবলার থাকলেই যে দলে জায়গা নিশ্চিত হবে, এমন নীতিতে আর থাকতে চান না তিনি। আধুনিক ফুটবলে একজন অসাধারণ খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করে সাফল্য পাওয়া কঠিন বলে মনে করেন এই অভিজ্ঞ কোচ।
আনচেলত্তির পরিকল্পনায় এখন গুরুত্ব পাচ্ছেন তরুণরা, ২০০৪, ২০০৫ ও ২০০৬ সালে জন্ম নেওয়া ফুটবলারদের পাশাপাশি ২০০৮ সালে জন্ম নেওয়া সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দেরও পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে। বয়স কম হলেও যারা ভবিষ্যতে জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠতে পারেন, তাদের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব ১৭ ও অনূর্ধ্ব ২০ দলের কোচিং স্টাফের সঙ্গেও জাতীয় দলের সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে। আনচেলত্তির লক্ষ্য, বয়সভিত্তিক দল থেকেই সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসা।
২০২৬ বিশ্বকাপের হতাশা কাটিয়ে নতুন করে শক্তিশালী ব্রাজিল গড়াই এখন আনচেলত্তির প্রধান লক্ষ্য। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি প্রীতি ম্যাচ এবং ৩ অক্টোবর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে বেশ কয়েকজন তরুণকে পরখ করার সুযোগ পাবেন তিনি।
নেইমারের মতো তারকার যুগ শেষ করে এবার দলীয় শক্তির ওপর দাঁড়ানো নতুন ব্রাজিল গড়তে চান আনচেলত্তি। ২০৩০ বিশ্বকাপে সেই পরিকল্পনার বাস্তব রূপ কতটা দেখা যায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।




