মাঠে নামলেই যেন নতুন কোনো রেকর্ড নিজের করে নিচ্ছেন কাভান সুলিভান।
যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতায় এবার আরও একটি ইতিহাস গড়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণ ফুটবলার।
সান দিয়েগোর বিপক্ষে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের ৫-০ গোলের বিশাল জয়ে জোড়া গোল ও একটি অ্যাসিস্ট করে ম্যাচডের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
স্ন্যাপড্রাগন স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে অবশ্য গোলের দেখা পাচ্ছিল না কোনো দলই।
প্রথমার্ধের নির্ধারিত ৪৫ মিনিট শেষ হওয়ার পরও স্কোরলাইন ছিল গোলশূন্য। তবে বিরতির ঠিক আগে যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে কাভানের পা থেকেই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল।
সেই গোলেই লিড নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে ফিলাডেলফিয়া।
বিরতির পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন। ম্যাচের ৬১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান বাড়ান কাভান।
এরপর ৬৭ মিনিটে ব্রুনো দামিয়ানি গোল করলে ম্যাচ কার্যত চলে যায় ফিলাডেলফিয়ার নিয়ন্ত্রণে। পরে সান দিয়েগোর আনিবাল গোদোর আত্মঘাতী গোল এবং মালিক জাকুপোভিচের শেষ মুহূর্তের গোলে বড় জয় নিশ্চিত করে সফরকারীরা।
দুই গোল ও এক অ্যাসিস্টের এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই কাভানকে এনে দিয়েছে ২০২৬ এমএলএসের ২৬তম ম্যাচডের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার। আর এর মধ্য দিয়ে বয়সের দিক থেকেও ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
মাত্র ১৬ বছর ৩৫১ দিন বয়সে এমএলএসের ম্যাচডের সেরা খেলোয়াড় হওয়া কাভান এখন এই পুরস্কারের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ।
তাঁর চেয়ে কম বয়সে এই কীর্তি রয়েছে শুধু ফ্রেদি আদু ও সান্তিনো কোয়ারান্তার। আদু ১৫ বছর ৩৪২ দিন বয়সে এবং কোয়ারান্তা ১৬ বছর ২৭৫ দিন বয়সে এই স্বীকৃতি পেয়েছিলেন।
কাভানের এই অর্জনে আরেকটি রেকর্ড হয়েছে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের। টানা দুই ম্যাচডেতে একই দলের দুই ভিন্ন খেলোয়াড় সেরা হওয়ার ঘটনা এমএলএসে মাত্র দ্বিতীয়বার।
এর আগে ২০২৫ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস এফসির হয়ে সন হিউং-মিন ও ডেনিস বুয়াঙ্গা এই নজির গড়েছিলেন।
চলতি মৌসুমেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন কাভান। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৯ ম্যাচে তাঁর গোল ৯টি, অ্যাসিস্টও ৯টি।
বয়স মাত্র ১৬, অথচ পারফরম্যান্সে প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে যাচ্ছেন নিজেকেই। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই তরুণের পথচলা যে এখনো অনেক দূর, সেটিই যেন প্রতিটি ম্যাচে নতুন করে জানান দিচ্ছে তাঁর পারফরম্যান্স।




