বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ছিল নানা প্রশ্ন।
শেষ পর্যন্ত সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
কমিটির দাবি, ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত কোনো সম্মিলিত বৈঠক কিংবা সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি।
বরং তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল এককভাবেই সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন।
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ক্রিকেট প্রশাসন কিংবা অন্যদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনা করা হয়নি।
এমনকি ক্রিকেটারদের সঙ্গে বৈঠকেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে তাদের মতামত নেওয়ার পরিবর্তে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রতিবেদনে যে এক ব্যক্তির সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে, তিনি তৎকালীন ক্রীড়ার দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
এখানেই শেষ নয়, বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আসিফ নজরুলের বক্তব্যের মধ্যেও অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
জানুয়ারিতে তিনি বলেছিলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সরকারই বাংলাদেশ দলকে ভারতে পাঠাচ্ছে না। অথচ কয়েক সপ্তাহ পর তিনি দাবি করেন, বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিসিবি ও ক্রিকেটাররা।
তদন্ত কমিটির চোখে এই দুই বক্তব্যের পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এতে সিদ্ধান্তের দায় পরবর্তী সময়ে বোর্ড ও খেলোয়াড়দের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশ্বকাপে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল ভারতে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় বিসিবি ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানালেও আইসিসি তা গ্রহণ করেনি। এরপর বাংলাদেশকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তদন্ত কমিটি বলছে, ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত যেন এককভাবে না নেওয়া হয়।
খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ও দেশের কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনিক কাঠামো, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বয় নিশ্চিত করার সুপারিশও করা হয়েছে।
ফলে বিশ্বকাপ না খেলার সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক আরও নতুন মাত্রা পেল তদন্ত প্রতিবেদনের পর। ক্রিকেটারদের মাঠের লড়াই থেকে দূরে রাখার মতো সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে যেন ব্যক্তিকেন্দ্রিক না হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।




