শেষ কয়েক বছরে ব্রাজিল দলে অনেক নামকড়া আক্রমণভাগের খেলোয়াড় এসেছেন। তবে এক নেইমারের সাথে কেউই পাল্লা দিয়ে পারফর্ম করতে পারেনি। উইঙ হোক বা স্ট্রাইকার, সেভাবে কেউই পারেননি কোন আদায় করতে। সেখানে ব্যাতিক্রম ছিলেন গ্যাব্রিয়েল জেসুস। ক্লাবে যেমনই খেলতেন এই তারকা, জাতীয় দলের হয়ে সবসময় আদায় করতেন গোল। ব্রাজিলের হয়ে ১৯ গোল জেসুসের, যা ভিনি, রাফিনহা, মার্টিনেল্লি সবার থেকে বেশি। যে কারণে জেসুসের ফর্মের দিকে চেয়ে থাকে সেলেসাও ভক্তদের।
এবার ভক্তদের কথা শুনলেন জেসুস। গোল আদায় করলেন অনেকদিন পরে। শুধু গোলই আদায় করেননি, রীতিমতো হ্যাট্রিক তুলে নিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। যে হ্যাট্রিকে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ৩-২ গোলের জয় পায় আর্সেনাল।
আর্সেনালের হয়ে এদিন শুরুর একাদশে নামেন জেসুস, খেলেন নাম্বার নাইন পজিশনে। আর সেখানেই ঝলক দেখান এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। অডেগার্ডের মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো দারুণ এক পাস থেকে ডিবক্সে বল পান জেসুস। এরপর একজন ডিফেন্ডারকে ড্রিবলিং করে এগিয়ে যান জেসুস। সেখান থেকে কোনাকুনি ভাবে এসে এক চিপ শটে দারুণ এক ফিনিশ করেন। আর তাতে সমতা পায় আর্সেনাল।
এরপর ৭২ মিনিটে বদলি নামা সাকার বাড়ানো পাস থেকে গোল করেন জেসুস। তার বাড়ানো বলে দারুণ এক শট করেন ডান পায়ে। তার শক্তিশালী শটের কোন উত্তর ছিল না গোলরক্ষকের কাছে।
ম্যাচের ৮১ মিনিটে নিজের হ্যাট্রিক পুর্ণ করেন জেসুস। আবারো এসিস্ট দাতা মিডফিল্ডার মার্টিন অডেগার্ড। এবার তার লং বল থেকে দারুণ এক রান নেন জেসুস। আর সেখান থেকে বল নিয়ে এসে ডিবক্সের ভিতর ঠান্ডা মাথায় করেন ফিনিশ। এরপর ক্রিস্টাল প্যালেসের হয়ে আর্সেনালেরই সাবেক তারকা এনকেতিয়া গোল দিলেও জয় পায়নি দলটি।
এই সিজনে এ নিয়ে চতুর্থ গোল জেসুসের। এর আগে সিজনে মাত্র এক ম্যাচে গোল পেয়েছিলেন। এছাড়া আর আছে দুই এসিস্ট। আর্সেনালে এসে শুরুর সিজন দুর্দান্ত কাটান জেসুস। তবে একের পর এক ইঞ্জুরিতে খেই হারান এই তারকা। আর সেখান থেকে যেন অনেকে তার আর্সেনালের শেষের দিন দেখছিলেন। এবার তাদেরকেই শক্ত জবাব দিলেন জেসুস। আগামী দিনে জেসুসের এমন কামব্যাক চায় ভক্তরা। এমন পারফর্মেঞ্চ ধরে রেখে জেসুস ফিরুক জাতীয় দলে, এটাই সবার প্রত্যাশা।




