কথায় আছে “ যেখানে বাঘের ভয়, সেখানেই সন্ধ্যা হয় “। চ্যাম্পিয়নস লীগে ম্যানচেস্টার সিটির সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ থাকে রিয়াল মাদ্রিদ। পেপ গার্দিওলাও স্বীকার করেন, চ্যাম্পিয়নস লীগ জিততে হলে হারাতে হবে রিয়াল মাদ্রিদকে। তবে এর আগে তিন মৌসুমের দুইবার যে কাজে ব্যার্থ হয়েছে তার দল। এবার তো রীতিমতো উড়ে গেছে।
এদিন ম্যানচেস্টার সিটি বধের নেতৃত্ব দেন ফ্রাঞ্চের কিলিয়ান এমবাপ্পে। সময়ের অন্যতম সেরা এই তারকা এদিন তুলে নেন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তার প্রথম হ্যাট্রিক। যে হ্যাট্রিকে ভর করে ম্যানচেস্টার সিটিকে বড় ব্যাবধানে হারায় রিয়াল মাদ্রিদ।
এদিন আর্লিং হলান্ডকে বসিয়েও লাভ হয়নি সিটির। আক্রমণ দূরে থাক, উলটো ম্যাচের ৪ মিনিটে গোল খেয়ে বসে তারা। সিনিয়ার পর্যায়ে প্রথম ম্যাচে লং বলে এসিস্ট আদায় করেন এসেন্সিও। আবারো নিজেদের অর্ধ দিয়ে এসিস্ট আদায় এই ডিফেন্ডারের। তার লং বল থেকে রান নেন এমবাপ্পে। এরপর দারুণ এক ফিনিশিংএ আদায় করেন ম্যাচে নিজের প্রথম গোল।
এরপর লিড ডাবল করতে ২৯ মিনিট সময় নেন রদ্রিগো। ৩৩ মিনিটে এবার গোল আদায় করেন রদ্রিগোর পাস থেকে। ডিবক্সের ভিতর বাড়িয়ে দেওয়া বলে অসাধারণ ডামি দিয়ে এগিয়ে যান রদ্রিগো। এরপর একজন ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে বল দেন সামনে থাকা এমবাপ্পের থেকে। সেখান থেকে একজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিং করেন ফ্রেঞ্চ তারকা
এরপর ৬১ মিনিটে ব্যাবধান ৩-০ করেন এমবাপ্পে। একই সাথে তুলে নেন রিয়াল মাদ্রিদ জার্সিতে নিজের প্রথম হ্যাট্রিক। ৬১ মিনিটে তাকে পাস দেন ফেডেরিক ভালভার্দে। সেই পাস পেয়ে ডিবক্সের সামান্য বাইরে থেকে নিজের দুর্বল পা বা পায়ে শট করেন এমবাপ্পে। তবে সেই শটও খুজে পায় জালের ঠিকানা। আর তাতেই ৩-০ হয় ব্যাবধান।
এরপর ম্যাচে একের পর এক আক্রমণ করে আর লিড বাড়েনি রিয়াল মাদ্রিদের৷ তবে ম্যাচের শেষদিকে সান্তনাসুচক এক গোল পায় ম্যানচেস্টার সিটি। ডিবক্সের সামনে থেকে ফ্রিকিক পেলে ওমর মারমুশ ফ্রিকিক নেন৷ তবে সেখানে সেই ফ্রিকিক বাড়ে লাগলে বল পান নিকো গঞ্জালেস। আর সেখান থেকেই ম্যানসিটির জার্সিতে প্রথম গোল পান এই তরুণ তারকা৷
এর আগে ম্যানচেস্টার সিটির মাঠে ৩-২ গোলে জয় পায় রিয়াল মাদ্রিদ। এবার ঘরের মাঠে সিটির বিপক্ষে জয় ৩-১ গোলে। দুই লেগ মিলিয়ে জয় ৬-৩ গোলে। যে জয়ে রাউন্ড অফ ১৬ এ রিয়াল মাদ্রিদ। একই সাথে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গেলো ম্যানচেস্টার সিটি। এমন পারফর্মেঞ্চ করে যেন প্রতিপক্ষকে নিজের আগমনী বার্তাই দিয়ে রাখলো রিয়াল মাদ্রিদ। এবার দেখা যাক, পরবর্তী রাউন্ডে কেমন করে দলটি।




