ফুটবলের ইতিহাসে অসংখ্য কিংবদন্তি জুটি এসেছে। কেউ গোলের পর গোল করে দলকে সাফল্য এনে দিয়েছেন, কেউ আবার নিজেদের বোঝাপড়ায় প্রতিপক্ষের রক্ষণকে করে তুলেছেন অসহায়।
কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে একসঙ্গে খেলে ৪০ ম্যাচে একবারও হারেননি—এমন কীর্তি এক জুটিই করতে পেরেছেন। সেলেসাও দলের হয়ে এমন কীর্তি করেন দলের দুই কিংবদন্তি পেলে ও গারিঞ্চা, সেটাও জুটিবদ্ধ হয়ে।
পেলে ছিলেন ফুটবলের রাজা, আর গ্যারিঞ্চা পরিচিত ছিলেন ‘বাঁকা পায়ের ফেরেশতা’ নামে। দুজনের খেলার ধরন ছিল একেবারেই আলাদা।
পেলে ছিলেন গোল করা, সুযোগ তৈরি করা, আক্রমণে সামনে থেকে অংশ নেওয়া। অন্যদিকে গ্যারিঞ্চার সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল ড্রিবলিং, গতি ও একের পর এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা।
একজন মাঝখান থেকে আক্রমণকে নেতৃত্ব দিতেন, অন্যজন ডান প্রান্ত দিয়ে তৈরি করতেন বিশৃঙ্খলা। এই ভিন্নতা শেষ পর্যন্ত তাদের জুটিকে করে তুলেছিল আরও ভয়ংকর।
১৯৫৮ বিশ্বকাপে প্রথমবার বিশ্বমঞ্চে এই জুটির আসল ঝলক দেখা যায়। তখন পেলের বয়স মাত্র ১৭ বছর।
ওয়েলসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে গোল করেন তিনি। এরপর ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমিফাইনালে করেন হ্যাটট্রিক। ফাইনালে সুইডেনের বিপক্ষে করেন আরও দুই গোল। ব্রাজিল জেতে প্রথম বিশ্বকাপ।
চার বছর পর আবারও বিশ্বকাপ জেতে ব্রাজিল। এবার দলের সবচেয়ে বড় তারকা ছিলেন গ্যারিঞ্চা। পেলে চোটের কারণে টুর্নামেন্টের বেশির ভাগ ম্যাচ খেলতে পারেননি।
তখন আক্রমণের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন গ্যারিঞ্চা। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ব্রাজিল দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়
১৯৫৮ সালে শুরুর পর ৬৬ সাল পর্যন্ত ৮ বছর থাকে থাকে এই জুটি। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে বুলগেরিয়ার বিপক্ষে ছিল তাদের শেষ ম্যাচ।
দুজনই সেই ম্যাচে গোল করেন। ব্রাজিল জেতে ২–০ ব্যবধানে। সেটিই হয়ে যায় জাতীয় দলের হয়ে পেলে-গ্যারিঞ্চার শেষ একসঙ্গে খেলা।
এরপর আর কখনো একই জার্সিতে মাঠে নামেননি তারা। এই সময়ে ৪০ ম্যাচ খেলেন একসাথে দুইজন, হারেননি এক ম্যাচেও। শুধু তাই নয়, এই সময়ে ৯০ ভাগ ম্যাচ জয় পায় পেলে গারিঞ্চা জুটি।
এই জুটিকে নিয়ে ব্রাজিল জিতে ৩৬ ম্যাচ, ড্র করে মাত্র ৪ ম্যাচ। যে পরিসংখ্যানও মুগ্ধ করবে যে কাউকে।
৪০ ম্যাচে অপরাজিত থাকার রেকর্ডই তাদের জুটিকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। এর সঙ্গে আছে দুটি বিশ্বকাপ। আছে অসংখ্য গোল ও স্মরণীয় মুহূর্ত।
তাই মেসি-সুয়ারেজ, জাভি-ইনিয়েস্তা কিংবা রোনালদো-বেনজেমার মতো জুটির সঙ্গে তুলনা করা হলেও পেলে-গারিঞ্চার জায়গাটা একটু আলাদা। কেননা ব্রাজিল ফুটবলকে আজকের অবস্থানে আনতে এই জুটির ভুমিকা যে কারো চেয়েই বেশি৷




