ফুটবল মাঠে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর সরাসরি দ্বৈরথ এখন আর নিয়মিত দেখা যায় না।
তবে মাঠের বাইরে তাঁদের জনপ্রিয়তা ও বাণিজ্যিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখনো সমানভাবে আলোচনায়। যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে ইন্টার মায়ামির হয়ে মেসি এবং সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের হয়ে রোনালদো খেললেও, তাঁদের জার্সির দামের পার্থ্যও ভক্তদের নজর কেড়েছে।
মেসির ইন্টার মায়ামির অফিশিয়াল অন ফিল্ড অরিজিনাল জার্সির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৪ দশমিক ৯৯ মার্কিন ডলার। প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ২৩ হাজার ৯৮৪ টাকা।
অন্যদিকে রোনালদোর নাম ও ৭ নম্বরসহ আল নাসরের ২০২৫ থেকে ২৬ মৌসুমের জার্সির দাম ১৪৬ দশমিক ৫৩ ডলার।
বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ১৮ হাজার ২৩ টাকা। অর্থাৎ মেসির জার্সি কিনতে রোনালদোর জার্সির তুলনায় প্রায় ৫ হাজার ৯৬১ টাকা বেশি খরচ করতে হবে। শতাংশের হিসাবে মেসির জার্সির দাম প্রায় ৩৩ শতাংশ বেশি।
তবে এই পার্থক্যের অন্যতম বড় কারণ হলো জার্সির ধরন। মেসির উল্লেখ করা জার্সিটি মূলত অন ফিল্ড বা অথেনটিক সংস্করণ, যা পেশাদার ফুটবলারদের মাঠে ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়।
এতে তুলনামূলক হালকা কাপড়, উন্নত বায়ু চলাচল ব্যবস্থা এবং খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের কথা মাথায় রেখে তৈরি বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।
অন্যদিকে রোনালদোর যে জার্সির দাম উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি মূলত সমর্থকদের জন্য তৈরি অফিসিয়াল ফ্যান সংস্করণ। ফলে এর উৎপাদন খরচ ও প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য অন ফিল্ড সংস্করণের তুলনায় আলাদা।
এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া বাজারের মূল্য নির্ধারণ কৌশলও গুরুত্বপূর্ণ। মেসি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর উত্তর আমেরিকার বাজারে ক্লাবটির বাণিজ্যিক মূল্য ও জার্সির চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। মেসির বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তাও জার্সির বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে।
তাই শুধু মেসি ও রোনালদোর জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে জার্সির দাম তুলনা করলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। জার্সির ধরন, প্রযুক্তি, উৎপাদন খরচ, বাজার এবং বাণিজ্যিক চাহিদা মিলিয়েই তৈরি হয়েছে এই প্রায় ৩৩ শতাংশ মূল্যের পার্থক্য।




