দেশের হয়ে খেলতে রাজি ছিলেন আগেই। তবে ছিল নানান জটিলতা। কেননা এর আগে খেলেছেন এক জাতীয় দলে। এর বাইরে বেড়ে উঠা জন্ম কোনটাই বাংলাদেশে নয়।
বরং ইংল্যান্ডেই বছরের বছর থেকে শিকড় গজিয়েছেন জায়ান। তবে যার দেশের প্রতি টান হয়েছে, তাকে তো রুখে দেওয়া যায়না।
সেই টানেই শত উপেক্ষার পরেও বেশ কিছুদিন আগে দেশের হয়ে খেলা নিশ্চিত করলেন জায়ান। ফিফার অনুমতি পাওয়ার পর জায়ান হাকিমের মাঠে নামতে রইলোনা আর কোন বাধা।
কিন্ত শুধু নামের জোড়ে তো থাকলে তো হবেনা। প্রবাসী ফুটবলারের মান নিয়ে অনেকে তোলেন প্রশ্ন। বিশেষ করে টপ টায়ার লীগ বাদে কাউকেই করতে চাননা মুল্যয়ন।
আবার অনেকেই বলেন জায়ান হাকিম নিজের সেরা সময় পার করে এসেছেন, বর্তমানে তার দেওয়ার কিছু নেই। তবে সবাইকে যেন এবার ভুল প্রমাণ করছেন এই স্ট্রাইকার।
নতুন মৌসুমে তার একের পর এক গোলেই উড়ছে তার ক্লাব। এখন পর্যন্ত ৪ ম্যাচে আদায় করেছেন ৪ গোল।
জায়ানের গোলের ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে ৮ আগস্ট নিউআর্ক টাউনের বিপক্ষে। ম্যাচটিতে ওয়েলিংবরো টাউন ৪–০ ব্যবধানে জয় পায়, আর দলের বড় জয়ে নিজের নামের পাশে একটি গোল যোগ করেন জায়ান।
চার দিন পর বোর্ন টাউনের বিপক্ষে তাঁর গোলটি ছিল আরও গুরুত্বপূর্ণ। ৩–২ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে গোল করে দলকে জয় এনে দেন তিনি।
এরপর ১৫ আগস্ট বাসফোর্ড ইউনাইটেডের বিপক্ষে ওয়েলিংবরো টাউনের ৫–১ ব্যবধানের বড় জয়ে আবারও গোলের দেখা পান জায়ান।
আর সেই ম্যাচে প্রথমার্থের ৪৪ মিনিটে আসে তাঁর পা থেকে গোল। এরপর ২ দিন পর আবারো স্কোরশিটে নাম লেখান জায়ান, হয়ে যান ওয়েলিংবোরোর নায়ক।
সর্বশেষ ১৮ আগস্ট বোস্টন টাউনের বিপক্ষেও গোলের ধারা ধরে রাখেন এই ফরোয়ার্ড। ২–০ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে ৫৩ মিনিটে গোল করেন তিনি।
অর্থাৎ নিউআর্ক টাউন, বোর্ন টাউন, বাসফোর্ড ইউনাইটেড এবং বোস্টন টাউন,টানা চার ম্যাচে চার ভিন্ন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোল করেছেন জায়ান।
চার ম্যাচে চার গোল মানে প্রতি ম্যাচে গড়ে একটি করে গোল। শুধু সংখ্যার বিচারে নয়, গোল করার সময়ও তাঁর ধারাবাহিকতা চোখে পড়ার মতো।
বিশেষ করে বোর্ন টাউনের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে করা গোলটি তাঁর গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দেওয়ার সামর্থ্যের প্রমাণ।
বাংলাদেশের জাতীয় দলের সামনে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো যত এগিয়ে আসছে, জায়ান হাকিমের এই ফর্ম ততই আশাবাদী করে তুলছে।
এখন দেখার বিষয়, এই গোলের ধারা তিনি কতটা দীর্ঘ করতে পারেন এবং জাতীয় দলের পর্যায়ে নিজের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ পেলে কতটা কাজে লাগাতে পারেন।




