কর্মক্ষেত্রে সবার সব দিন সমান যায় না। সবদিন মানুষ তার সেরাটা দিতে পারে না।
অন্য সব মানুষদের থেকে এই জায়গায় হয়তো আলাদা নন নেইমারও। মাঠের জাদুকর নেইমার হয়তো সবদিন জাদু দেখাতে পারেন না নিজের।
সেই বাস্তবতা নেইমার নিজেও হয়তো মানবেন। কিন্তু তার প্রতি পারফরম্যান্সের পর একই প্রশ্নে বিরক্ত নেইমার।
বারবার ইনজুরির আগে এখনও আগের শেইপে আসেননি নেইমার। ফলে তার কিছুটা ছন্দপতন হওয়া অসম্ভব না।
কিন্তু ম্যাচ হারলেই বা নেইমারের ছন্দপতন হলেই যেন প্রশ্ন উঠে তার ফিটনেসে।
ম্যাচে তার পারফরম্যান্সের কাটাছেঁড়া না করে আলাপ করা হয় তার ফিটনেস নিয়ে, তার বাইরের জীবনযাপন নিয়ে।
সান্তোসের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচে হারার পরও তাই সাংবাদিকদের প্রশ্ন এই ব্রাজিলিয়ান তারকার ফিটনেস ও লাইফস্টাইল নিয়ে।
আর সেখানেই বিরক্তি প্রকাশ নেইমারের। সাংবাদিকদের সেই প্রশ্নের জবাবে বলেই দিলেন, এমন প্রশ্ন যেন ৩০০ বার করেছেন তারা।
সর্বশেষ ম্যাচে মিরাসলের কাছে ৩-০ গোলে হারে নেইমারের দল সান্তোস।
এর আগের ম্যাচে অবশ্য শক্তিশালী ফ্ল্যামেঙ্গোকে হারিয়ে চমক দেয় তারা। সব মিলিয়ে দুই ম্যাচ নিয়েই আলাপ করেন নেইমার জুনিয়র।
ম্যাচ হারার পর এদিন ম্যাচ নিয়েই কথা বলেন নেইমার। আগের ম্যাচের সঙ্গে এই ম্যাচের পার্থক্য তুলে ধরেন।
এছাড়া কী কী জায়গায় পিছিয়ে ছিল দল, সেই আলাপও করেন। কী কী ক্ষেত্রে দলের বিপক্ষে ভুল হয়েছে, সেটাও উঠে আসে সাবেক বার্সা তারকার আলাপে।
কিন্তু সেখানেই ফিটনেস নিয়ে হঠাৎ প্রশ্ন করে বসেন সাংবাদিক। আর সেই সময়ই বিরক্তিভাব তুলে ধরেন নেইমার।
ম্যাচ হারার পর সাংবাদিকদের এই তারকা বলেন, “মিরাসলের বিপক্ষে ম্যাচে সব কিছুরই অভাব ছিল, সে কারণেই স্কোরলাইন ৩-০ হয়েছে।
ফ্ল্যামেঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচে আমরা যেমন খেলেছিলাম, আজ সেটার অর্ধেকও দিতে পারিনি।
বিশেষ করে প্রতিপক্ষের মার্কিংয়ে। আগের ম্যাচে ফ্ল্যামেঙ্গো শুধু বল দখলে এগিয়ে ছিল, আজ মিরাসল বল দখলের পাশাপাশি সবকিছুতেই এগিয়ে ছিল।” এরপর ফিটনেস নিয়ে করা প্রশ্নে নেইমার বলেন, “আবার এই প্রশ্ন, ৩০০ বার এ নিয়ে কথা বলেছি।”
নেইমারের ক্ষোভ অমূলক নয়। অন্য সবার চেয়ে তার নিজেরই নিজের প্রতি চিন্তা আছে।
ইনজুরি থেকে সে নিজেও সম্পূর্ণ ফিট হতে চান। কিন্তু বারবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাকে।
এবার সেখান থেকেই এলো বিরক্তি। বিশেষ করে যেকোনো পরিস্থিতিতেই নেইমারের ফিটনেসকে টানা যে সমীচীন নয়, সেটাই যেন এবার বুঝিয়ে দিলেন নেইমি।




