কথায় আছে নাচতে না জানলে উঠান বাকা। তবে মাঝে মাঝে উঠান একটু বাকাও হয়।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের উঠান নিয়ে দেশ বিদেশে সমালোচনার অভাব নেই।
অনেকে তো মনে করে এই পিচই বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতির অন্তরায়।
হোম এডভান্টেজের নামে বাংলাদেশ এতদিন যে পিচ বানিয়েছে, তাতে দেশের ক্রিকেটের যে এডভান্টেজ হয়নি সেটি নিশ্চিত।
আর যে কারণে এবার এইদিকে বাড়তি নজর ছিল বিসিবি।
নতুন করে বিসিবিতে এসেই তোড়জোড় নতুন কিউরেটরের। প্রায় ১০ লাখ মাসিক বেতন নিচ্ছেন, গুলসানের বাড়ি সহ অন্যান্য সুবিধা নিয়ে হেমিং দায়িত্ব আছেন দেশের ক্রিকেটের পিচ ঠিক করার। আর সেই কাজটাই দারুণ ভাবে শুরু করেছেন এই ইংলিশ কিউরেটর।
দায়িত্ব নিয়ে হোম অফ ক্রিকেটের সংস্কারে মন দেন হেমিং। আশেপাশের পুইশাক সহ সবকিছু উচ্ছেদ করেন, নতুন করে পিচ বানানোর চিন্তা করেন।
তবে শুধু মিরপুরে নজর দিলে যে এগোবে না দেশের ক্রিকেট, সেটা হেমিংও বোধহয় ভালোই জানেন।
যে কারণে এবার হেমিং এর নজর সারা দেশের ৬৪ জেলার মাঠের দিকে।
সেখানে এবার হাইব্রিড পিচের ঘোষণা হেমিং এর। ৬৪ জেলাতেই হাইব্রিড পিচ করবেন। যে কারণে শীত সহ সবসময় খেলতে পারবে ক্রিকেটাররা। এছাড়া করা যাবে টেকসই পিচ। এ নিয়ে হেমিং বলেন “ দেশের ৬৪ জেলায় হাইব্রিড পিচ করার পরিকল্পনা আছে।
যেসব পিচে দীর্ঘদিন ব্যাবহার করা যায়, শীতেও খেলার উপযোগী ও ভালো আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নিয়ে যায়।
এতে উপকৃত হবে দেশের সর্বস্তরের ক্রিকেটার”
আসলে হাইব্রিড পিচ কি৷ হাইব্রিড পিচ মুলত সাধারন প্রাকৃতিক ঘাসের সাথে অল্প পরিমাণ টার্ফ ও সিন্থেসিস ঘাসের মিশ্রণ।
যে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উইকেট বেশ ভালো থাকে। এটি উইকেটকে দীর্ঘদিন খেলার উপযোগী রাখে।
এর বাইরে এই ধরণের উইকেটে বেশ ভালো বাউন্স পাওয়া যায়। যা ব্যাটসম্যান ও বোলার দুইজনকে দেবে সমান সুবিধা।
এছাড়া এটির রক্ষণাবেক্ষণ তুলনামুলক সহজ।
মিরপুরের মত সারা দেশে যে উইকেট যত্ন পাবেনা, সেটা এক ধরণের অপ্রকাশিত সত্যই।
আর সেখানে প্রত্যেক জেলার নানা লীগ, বিভাগীয় লীগ, বয়সভিত্তিক ম্যাচ সহ অনেক ক্রিকেটের আয়োজন হবে।
সাধারণত এত আয়োজনে পিচের মান ধরে রাখা কঠিন। কিন্ত হাইব্রিড পিচ দীর্ঘদিন মান ধরে রাখে ও রক্ষণাবেক্ষন সহজ।
সারাদেশে এমন পিচ হলে খেলাও যেমন বাড়বে, তেমনি ভালো উইকেটেও খেলতে পারবে ক্রিকেটাররা।
আর তাতে যে উপকৃত হবে দেশের ক্রিকেটই, তাতে কারোই নেই কোন সন্দেহ।




