কবিদের যত বিশেষণ, যত উপমা,
সব কিছু মিলিয়ে একটি পত্র লিখলেও হয়তো পুরো অনুভূতিটা ব্যাক্ত হবে না।
ক্যালেন্ডারের সংখ্যাগুলো যদি কথা বলতে পারতো,তবে হয়তো ৫ ফেব্রুয়ারি বুক ফুলিয়ে বলতো,’আমি সেরা তারিখ’।
অন্তত ফুটবল প্রেমীদের জন্যতো সেরাই।
ব্রাজিলীয়ান সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র।
ইঞ্জুরির আড়ালে রাখা শরীর নিয়ে যতটা দিয়েছেন ফুটবল বিশ্বকে,কিংবা গত প্রায় দেড় জুগে ব্যাক্তিগত পারফরম্যান্সে যতটা মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন রোনালদো, তা ফুটবল প্রেমীদের হাজারো রাত জাগার কারনতো অবশ্যই।কারো কারো জন্যতো ফুটবলটা দেখার কারনই তারা।
১৯৯২ সালের এই দিনে ব্রাজিলের মগি দাস ক্রুজেসে জন্ম গ্রহণ করেন নেইমার।মাত্র ৯ বছর বয়সে পেলের স্মৃতিবিজড়িত ক্লাব সান্তোসে নাম লিখিয়েছিলেন।
২০১৩ মৌসুমে সান্তোসের সঙ্গে গাঁটছড়া ছিন্ন করে যোগ দিয়েছেন স্বপ্নের ক্লাব বার্সেলোনায় এরপর রেকর্ড গড়া দামে পাড়ি জমান পিএসজিতে,সেখান থেকে আল হিলালে।,আর গল্পের গোল গোলাকার রেখায় আবারো সান্তোসে।
অন্যদিকে ১৯৮৫ সালে পর্তুগালের মাদেইরা শহরে জন্মগ্রহণ করেন রোনালদো। মা-বাবা নাম রেখেছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের সঙ্গে মিল রেখে। ছোটবেলায় ছিলেন অত্যন্ত গোবেচারা, নিরীহ প্রকৃতির। শৈশবে সমবয়সী নয়, খেলতে পছন্দ করতেন বড়দের সঙ্গে।
মা না ডাকা পর্যন্ত ফুটবল নিয়েই মেতে থাকতেন খেলার মাঠে। দুজনই একসময় খেলেছেন স্প্যানিশ লিগে। বিশ্ব ক্লাব ফুটবলের সবচেয়ে বড় দ্বৈরথও মাতিয়েছেন তারা। ৫ বছর আগে স্পেন ছেড়ে প্যারিসে পাড়ি জমান নেইমার।
এরপর রোনালদোও খুব বেশিদিন স্পেনে ছিলেন না। আকস্মিক স্পেন ছেড়ে তিন বছর ইতালি ঘুরে পাঁচবারের বর্ষসেরা ফুটবলার ফিরে যান আবারো ইংল্যান্ডে। যেখানে খেলে আজকের রোনালদো হয়েছিলেন সেই ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকেই বেছে নেন আবারো।যদিও ভাগ্য সহায় হয়নো,বয়সটা তার রুপ দেখিয়েই দিয়েছে শেষমেশ।
দেশ, ক্লাব, খেলার ধরণে এই দুইজনের মধ্যে মিল খুজে না পেলেও একটা জায়গায় দারুন মিল খুজে পাওয়া যায়।
সেটা দুজনের জন্মদিনকে ঘিরেই। কেননা, আজ ৫ ফেব্রুয়ারি দু’জনেরই জন্মদিন! সময়ের অন্যতম সেরা দুই তারকা একই তারিখে এই পৃথিবীতে এসেছিলেন।
বয়সের হিসেবে আজ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ৪১ তম জন্মদিন, আর নেইমার পা দিয়েছেন ৩৪ এ।
দুজনের এই জন্মদিন বারবার ফিরে আসুক তাদের জীবনে।দু পায়ের রঙিন ড্রিবলিঙের মতোই তাদের জীবন হোক আরো রঙিন।




