আন্তজার্তিক ম্যাচ নেই, ঘরোয়া আসর নিয়েও নেই তেমন মাতামাতি। তবুও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশ ফুটবল।
আর সেখানে এই মুহুর্তে সবচেয়ে বড় আলোচনা বাংলাদেশের সম্ভাব্য কোচ। হাভিয়ের কাবরেরার পরবর্তী যুগে কে ধরবেন বাংলাদেশের হাল, কার উপর উঠবে দক্ষিণ এশিয়ান দেশটির দায়িত্ব, সেই আলোচনা দর্শকমহলে।
সেই বিস্তারিত আলাপে ঘুরে ফিরে আসছে দুই নাম। একদিকে ব্রাজিলকে স্বর্ণ জেতানো কোচ রোজারিও মিকেল, আরেকদিকে ইতিহাস গড়ে ওয়েলসকে ইউরোর সেমিতে নেওয়া কোচ ক্রিস কোলম্যান।
ক্রিস কোলম্যানের সবচেয়ে বড় পরিচয় তার ট্যাকটিক্যাল ডিসিপ্লিন ও আন্ডারডগ দলকে বড় মঞ্চে সফল করে তোলার ক্ষমতা।
ইউরোর আসরে ওয়েলসকে নিয়ে গেছেন সেমিফাইনালে, হারিয়েছেন সোনালী প্রজন্মের বেলজিয়াম দলকে।
কোলম্যান নিজের কাছে থাকা অস্ত্রের সঠিক ব্যাবহার করতে জানেন, যা বাংলাদেশের জন্য হবে কার্যকর।
বাংলাদেশের মতো একটি দলের জন্য, যারা প্রায়শই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়, সেখানে কোলম্যানের অভিজ্ঞতা খুবই মূল্যবান হতে পারে।
আরো এক কারণে কোলম্যানকে মুল্যয়ন করা যেতে পারে। কোলম্যান ইপিএলে খেলেছেন ৫০০ ম্যাচ, ইংল্যান্ডের জল হাওয়ায় বড় হয়েছে।
সেই দেশেই আছেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী। বিশেষ করে কোলম্যান যে ক্লাবে খেলেছেন দীর্ঘদিন, সেখানেই আছেন ফারহান, রায়ানের মত বাংলাদেশীরা।
আগামী দিনে কোলম্যান কোচ হলে এই প্রবাসীদের দেখা যেতে পারে বাংলাদেশের জার্সিতে, আর তাতে যেমন বাড়বে দলের শক্তি, তেমনি প্রবাসীরাও হবে আগ্রহী।
অপরদিকে রোজারিও মিকেলের বড় শক্তি তার তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা। ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি অলিম্পিকে স্বর্ণ জিতিয়েছিলেন।
এছাড়া ইরাক অলিম্পিক দলকে নিয়েও সাফল্য পান তিনি। রবিন মিয়ার মতেও প্রতিভা নিয়ে কাজ করতে ভালোবাসেন রোজারিও।
বাংলাদেশের সম্পর্কে জেনেই এসেছন দায়িত্ব নেওয়ার জন্য৷
বাংলাদেশের মতো একটি দল, যেখানে তরুণ প্রতিভার সংখ্যা বাড়ছে, সেখানে মিকেলের এই দক্ষতা হতে পারে বড় সম্পদ।
হামজা বা সামিতদের মতো খেলোয়াড়দের গড়ে তুলতে একজন ডেভেলপমেন্ট-ফোকাসড কোচ কার্যকর হতে পারেন। এর বাইরে তরুণদের জন্যও সঠিক গাইডলাইন হতে পারেন এই কোচ।
সব মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য রোজারিও মিকেল দারুণ পছন্দ হতে পারে। আবার প্রবাসী ও রেজাল্ট বেইজ ফুটবলের জন্য কোলম্যানকে বাফুফে দিতে পারে দায়িত্ব। এবার দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কে বসেন কোচের মিউজিক্যাল চেয়ারে।




