লিওনেল মেসি, ফুটবলের ইতিহাসে যার নাম লেখা স্বর্ণাক্ষরে। সেই মেসি শুধু মাঠেই নন, স্টাইল ও ব্যক্তিত্বের দিক থেকেও এক অনন্য আইকন। সেই স্টাইলের নজির দেখালেন আরো একবার। সম্প্রতি তার হাতে দেখা গেছে এক অসাধারণ বিলাসবহুল ঘড়ি। ৫ কোটি টাকার যে ঘড়ি আবারও প্রমাণ করেছে তার ফ্যাশন সেন্স কতটা সূক্ষ্ম ও পরিশীলিত।
রোলেক্স কসমোগ্রাফ ডায়টোনা রেইনবো নামক সেই ঘড়ি দিয়েই এবার আলোচনায় মেসি। মেসিকে এই ঘড়িটি পরতে দেখা যায় একটি হাই-প্রোফাইল ইভেন্টে। সাম্প্রতিক সময়ে ফর্মুলা ওয়ান রেস দেখতে উপস্থিত হন লিওনেল মেসি। গাড়ির সবচেয়ে বড় এই আসরের রেসেই আল য তার উপস্থিতি যেমন নজর কাড়ে, ঠিক তেমনি তার হাতে থাকা এই বিরল টাইমপিসও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। রোলেক্স ডায়টোনা রেইনবো এমন একটি ঘড়ি, যা সাধারণ বিলাসবহুল ঘড়ির গণ্ডি ছাড়িয়ে একেবারে সংগ্রাহকদের স্বপ্নের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
এই ঘড়িটির কেস তৈরি ৪০ মিমি ১৮ক্যারেট এভাররোন গোল্ড দিয়ে। ডিজাইনে আছে রোলেক্স এর নিজস্ব তৈরি এক ধরনের গোলাপি আভাযুক্ত সোনার মিশ্রণ, এটি ঘড়িটিকে দেয় এক অনন্য উষ্ণ ও এলিগেন্ট লুক। কিন্তু এর সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো এর বেজেল। যেখানে বসানো আছে ৩৬টি বিশেষভাবে কাটা স্যাফায়ার, যা রংধনুর মতো এক সুন্দর গ্রেডিয়েন্ট তৈরি করে। প্রতিটি পাথরের রঙ এমনভাবে সাজানো যে পুরো বেজেলটি যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।
ডায়াল এবং কেস জুড়ে রয়েছে মোট ৫৬টি হীরার ব্যবহার, যা ঘড়িটিকে আরও ঝলমলে ও রাজকীয় করে তোলে। তবে এই ঝলকানির মাঝেও একটি নিখুঁত ব্যালান্স রয়েছে, যা কখনোই অপ্রয়োজনীয় বা অতিরিক্ত মনে হয় না। বরং এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে বিলাসিতা ও রুচিশীলতা একসাথে ফুটে ওঠে।
এই মডেলটি আউট অফ ক্যাটালগ অর্থাৎ রোলেক্স এর সাধারণ বাজারে এটি পাওয়া যায় না। ফলে এর বিরলতা এবং সংগ্রাহক মূল্য অনেক বেশি। বাজারে এর আনুমানিক দাম ৪ লাখ ২০ হাজার ডলার থেকে শুরু করে ১ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে, যা এটিকে বিশ্বের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত ঘড়িগুলোর মধ্যে একটি করে তুলেছে। বাংলাদেশী টাকায় এর মুল্য ৫ কোটি টাকার অধিক। যে কাউকে এই ঘড়ি কিনতে দিতে হবে ৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা।
এর আগেও নানা সময়ে নানা দামী ঘড়ি হাতে দেখা গেছে মেসিকে পড়তে। ভারতে এসে আম্বানির থেকেও দামী ঘড়ি পান মেসির। মেসির এই দামী ঘড়ি প্রমাণ করে, ব্যাক্তি হিসেবে সে কতটা সৌখিন ও রুচিসম্পন্ন।




