বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে যত প্রশ্নই থাকুক, লিওনেল মেসি যেন সেগুলোর জবাব দিতে প্রস্তুত ছিলেন আগেই।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে বড় ব্যাবধানে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
আর দলের তিনটি গোলই এসেছে অধিনায়ক মেসির পা থেকে।
কানসাস সিটির ম্যাচে শুরু থেকেই আলজেরিয়া সাহসী ফুটবল খেলেছে। অষ্টম মিনিটে ফারেস শাইবির শটে বল জালেও জড়িয়েছিল, তবে ভিএআর পর্যালোচনায় অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়। সেই ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় আর্জেন্টিনা।
১৬তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে মেসির কাছ থেকে। মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের মাঝখানে জায়গা পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে নিখুঁত শটে বল জড়িয়ে দেন জালে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১১৮তম গোলটি আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেয় ১-০ ব্যবধানে।
প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা বলের দখল বাড়াতে থাকলেও আলজেরিয়াও পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার বিপদের আভাস দেয়।
তবে এমিলিয়ানো মার্তিনেজের নেতৃত্বে আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগ ছিল যথেষ্ট সংগঠিত।
বিরতির পর আলজেরিয়া বলের দখলে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় তারা।
উল্টো ৬০তম মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আর্জেন্টিনা। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের দূরপাল্লার শট গোলরক্ষক ঠেকালেও ফিরতি বলে সবার আগে পৌঁছে সহজেই জালে পাঠান মেসি।
দ্বিতীয় গোলের পর ম্যাচ পুরোপুরি আর্জেন্টিনার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। লাউতারো মার্তিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজকে ঘিরে একের পর এক আক্রমণ তৈরি হতে থাকে।
৭৫তম মিনিটে আসে ম্যাচের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত। নিকোলাস গনসালেসের সঙ্গে দ্রুত পাস আদান-প্রদানের পর বক্সের কিনারা থেকে নিচু শটে নিজের হ্যাট্রিক পূর্ণ করেন মেসি।
৩৮ বছর বয়সী এই তারকা বিশ্বকাপে নিজের ষষ্ঠ আসরে খেলতে নেমেই আবারও প্রমাণ করলেন, বড় মঞ্চে তিনিই এখনো আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় ভরসা।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইনজুরি, ফিটনেস ও দলীয় ভারসাম্য নিয়ে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে নানা আলোচনা ছিল।
তবে প্রথম ম্যাচেই লিওনেল স্কালোনির দল দেখিয়ে দিল, তারা এখনো শিরোপা ধরে রাখার অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার। আর সামনে মেসি থাকলে আর্জেন্টিনাকে কখনোই হিসাবের বাইরে রাখার সুযোগ নেই।




