বাংলাদেশ ক্রিকেটে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম নিয়ে যখন কঠোর অবস্থানের কথা বলা হচ্ছে, তখনই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে ফিক্সিং,সংক্রান্ত অভিযোগে উঠে এসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির এক নেতার নাম।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটের তদন্তের পর দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর ও অডিট কমিটির সাবেক সদস্যসচিব রাকিবুল ইসলাম সানি।

সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
তাদের মধ্যে রাকিবুল ইসলাম সানি জাতীয় নাগরিক পার্টির জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রাকিবুলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের দুর্নীতিবিরোধী বিধিমালার দুটি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর মধ্যে ২.৪.৪ ধারায় অভিযোগ করা হয়েছে, দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর জন্য তার কাছে আসা কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণের পূর্ণাঙ্গ তথ্য নির্ধারিত দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তাকে যথাসময়ে জানাতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।
অন্যদিকে ২.৪.৬ ধারায় অভিযোগ হলো, সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্তে সহযোগিতা করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন অথবা সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে রাকিবুল ইসলাম সানিকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিসিবি। চার্জের নোটিশ পাওয়ার পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে জবাব দেওয়ার জন্য তাকে ১৪ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বিষয়টি তদন্ত ও জবাবের প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে।
রাকিবুল ছাড়াও বিপিএল–সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন বিসিবি পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীম এবং বিসিবির সাবেক নিরাপত্তা লিয়াজোঁ কর্মকর্তা জাকির হোসাইন। তিনজনকেই সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি।
এদিকে ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটে নৈতিকতা ও দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান নিয়ে।
বিশেষ করে সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের সময় সাকিব আল হাসানকে নৈতিক সমস্যার কথা উল্লেখ করে ক্রিকেট থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গও সামনে এসেছে।
তবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা আর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়।
রাকিবুলসহ তিনজনের ক্ষেত্রেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে তদন্ত ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত তিনজনই সাবেক বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের অধীনে বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন,যখন ক্রীড়া উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ মাহমুদ।




