গত মৌসুমেও এস্টন ভিলাকে মাঝারি মানের দল বলা যেত। তবে এই মৌসুমে সেটা বলার খুব বেশি সুযোগ নেই। এই দলটিকে প্রিমিয়ার লীগ ও অন্যান্য আসরে উচু দরে দেখা হয়। এই দলের হয়ে নিয়মিত পারফর্ম করছে ওয়াটসকিনস, টেলেরেমাস, রজার্স, ওনানারা। এছাড়া ট্রান্সফারমার্কেটেও বেশ সরব দলটি, কিছুদিন আগেই দলে ভেড়ালো সাবেক মাদ্রিদ তারকা এসেন্সিওকে। সেই এস্টন ভিলার হয়ে যেন হারিয়েই গেছেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
সর্বশেষ ১৩ ম্যাচে মার্টিনেজ ক্লিনশিট পেয়েছেন মাত্র এক ম্যাচে। সেটাও তালিকার ১৬ তে থাকা এভারটনের বিপক্ষে৷ তবে সেটাও এখন ছোট করে দেখার উপায় নেই মার্টিনেজের অবস্থায়, কেননা রেলিগেশন জোনে থাকা লেস্টার সিটির বিপক্ষেও ক্লিনশিট পাননি মার্টিনেজ। অক্টোবর থেকে এমি মার্টিনেজের অর্জন বলতে জুভেন্তাসের বিপক্ষে এক ক্লিনশিট। শেষ ৪ মাসে ৩ ক্লিনশিট মার্টিনেজের, যার মধ্যে ২ টি দল প্রিমিয়ার লীগের শেষের কাতারের দল।
শেষ ৫ ম্যাচে কোন ক্লিনশিট নেই মার্টিনেজের, হজম করেছেন ৮ গোল। এর মাঝে দল জয় পেয়েছে এক ম্যাচে, সেখানেও হঠাৎ দুই গোল খেয়ে দলের বিপদ বাড়িয়ে দিয়েছিলেন মার্টিনেজ৷ আর্সেনালের মত দলকে রুখে দেয় এস্টন ভিলা, সেখানেও জোড়া গোল হজম করেন মার্টিনেজ। এছাড়া বড় ম্যাচে একাধিক গোল হজম করা মার্টিনেজের জন্য নিয়মিত বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে।
মৌসুমে ২৪ ম্যাচে ৩ ক্লিনশিট, হজম করেছেন ৩৬ গোল। বিপরীতে সেভ দিয়েছেন ৬২ টি, অর্থ্যাৎ প্রতি ২ টি সেভেরও কম এর বিপরীতে এক গোল হজম করেন মার্টিনেজ। ক্লিনশিটে প্রিমিয়ার লীগে ১৭ নাম্বারে আছেন মার্টিনেজ, তবে ২৮ জনের তালিকার মার্টিনেজের চেয়ে বেশি গোল হজম করেছেন মাত্র একজন গোলরক্ষক। সেভ পার্সেন্টিজে ১৮ নাম্বারে মার্টিনেজ। ব্রাজিলের এডারসন বাজে ফর্মে আছেন, তার বল সেভিং এবিলিটি নিয়ে প্রশ্ন ছিল সবসময়। তবে সেই এডারসন নিজের বাজের সময়েও মার্টিনিজের উপরে আছেন, আর এলিসন থেকে তো অনেক দূরে এই আর্জেন্টাইন।
৯০ মিনিটে সেভের তালিকায় ১৬ নাম্বারে মার্টিনেজ, গোল ঠেকানোতে ১৭ নাম্বারে। সেখানে বরং ম্যাচপ্রতি গোল ঠেকানোর হারে ঋণাত্মক মার্কিং মার্টিনেজের। তবে এক জায়গায় সেরা দশে আছেন মার্টিনেজ। প্রতি ম্যাচে গোল হজমের তালিকায় আবার নয়ে জায়গা পেয়েছেন এই আর্জেন্টাইন। সব মিলিয়ে সব জায়গায় যে হারিয়ে খুজছেন নিজেকে, সেটাই বলাই যায়।
দুইবার ইয়াসিন ট্রফি জয় করা মার্টিনেজ সমর্থকদের হৃদয়ে গেথে থাকবেন, তা নিশ্চিত। এর মাঝে অনেক কিছু জয়ও করেছেন, ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে অবদানও আছে।তবে এই মার্টিনেজ এখন শেষের দিন গুণছেন কিনা, তার হানিমুন টাইম শেষ হয়েছে কিনা সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।




