কথায় আছে ঢেকি স্বর্গে গেলেও ধান বানে,আর লিওনেল মেসিকে ক্ষেত্রে খাটে তাকে যেখানেই ছেড়ে দেওয়া হোক সেখানেই গোল-এসিস্ট করেন।মেসি শৈশবে যা করতেন তা ছিলো অনেকের যৌবনের স্বপ্ন,যৌবনে যা করেছেন তা কেও স্বপ্নেও ভাবেননা,আর ক্যারিয়ারের শেষের দিকে এসেও যা করছেন তা যেন এক কথায় প্রমান করে মেসি কোনো বয়স মানেন না! আজ কনকা-কাফে মাঠে নেমেছিলেন লিওনেল, খেলার শুরুতেই করলেন চোখ ধাধানো এক গোল।বন্ধু লূইস সুয়ারেজের পাস থেকে বল প্রথমে নেন বুকে,এরপর বুলেট গতির শ্যটে বলকে জালের সাথে সাক্ষাৎ করান।কমেন্ট্রটর বলতে বাধ্যই হলেন ভিন্টেজ মেসি,ডুয়িং হিজ জব!
বলবেনইবা না কেন?সব পরিস্থিতিতেই যে মেসি এমনই!
আজ ২ সফল ড্রিবল,৯১ ভাগ সফল পাস,১ টি কি পাস যা থেকে মায়ামি পেয়েছে গোলও! সাথে ১০০ ভাগ লং বল ও একটি বিগ চান্স ক্রিয়েট সবকিছু মেসি করেছেন মোটে ৬৯ মিনিট খেলে!
আজ লিওনেল মেসি গোল করার পর,২য় গোলটিতেও বড় ভুমিকা ছিলো লিওর,তার দারুন এক কি বল থেকেই বল পান আলবা,আর আলবা হয়ে বল পেয়ে গোল করেন এলেন্ডে।এরপর প্রথম অর্ধ শেষ হবার আগেই গোল করেন লুইস সুয়ারেজ।
পরে অবশ্য বিরতির পরেই এক গোল শোধ করেছে স্পোর্টিং। তবে দুই লেগ মিলিয়ে বেশ এগিয়ে থেকেই কনকা কাফের প্রথম রাউন্ডের দুই ম্যাচ শেষ করলো মায়ামি।
জানুয়ারির দলবদলে বেশ ব্যস্ত সময় পার করছে লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামি। গত মাসেই তারা দলে টেনেছে নতুন ৪ মুখকে। , তবু নতুন কোচ হ্যাভিয়ের মাশ্চেরানোর অধীনে ইন্টার মায়ামির খেলার ধরণটা কেমন হয়, সেটার দিকেই চোখ ছিল ভক্তদের। আর লিওনেল মেসির মাঠে ফেরার ক্ষণটাও মিস না করার মতো না।
তাই এই টুর্নামেন্ট দিয়েই প্রথমবার অফিশিয়াল ম্যাচে মাঠে নেমেছিলো মেসিরা,সেখানে,হাড়কাঁপানো শীত, বরফে ঢাকা মাঠ, আর বিপরীতে চ্যালেঞ্জিং প্রতিপক্ষ—সব বাধা অতিক্রম করে, ফুটবল বিশ্বকে নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দেন লিওনেল মেসি। মাইনাস ১৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার প্রচণ্ড ঠান্ডায় জমে যাওয়া কানসাসের চিলড্রেনস মার্সি পার্কে তিনি একাই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন। তার করা একমাত্র গোলেই কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপের প্রথম লেগে স্পোর্টিং কানসাস সিটির বিপক্ষে ১-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছিলো ইন্টার মায়ামি।
তীব্র তুষারঝড়ের কারণে একদিন পিছিয়ে যাওয়া ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় গতবুধবার রাতে। তবে সূচি পরিবর্তন করেও ঠান্ডা দূর হয়নি; বরং বরফে জমে থাকা মাঠে খেলতে নেমে দুই দলের খেলোয়াড়দের লড়তে হয়েছে প্রকৃতির বিরুদ্ধেও। বিশেষ করে মেসি ও তার সতীর্থদের গায়ে ছিল গ্লাভস, নেক ওয়ার্মার, এমনকি কেউ কেউ লম্বা লেগিংস পরে মাঠে নেমেছিলেন শীতের দাপট সামলাতে।
তবে ম্যাচের ৫৬তম মিনিটে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটান মেসি। সাবেক বার্সা সতীর্থ সার্জিও বুসকেটসের দুর্দান্ত এক ক্রস-ফিল্ড পাস থেকে বল বুক দিয়ে নামিয়ে নেন মেসি। এরপর চোখের পলকে স্পোর্টিং কানসাসের ডিফেন্ডার এরিক থমির বিপরীতে দুর্দান্ত স্কিল দেখিয়ে নিজেকে ফাঁকা করে নেন এবং নিখুঁত শটে বল পাঠিয়ে দেন গোলরক্ষক জন পালসক্যাম্পের পাশ দিয়ে জালের ঠিকানায়।
আর আজ যেন সেই গোলের একপ্রকার রিপিট টেলিকাস্টই করলেন আর্জেন্টাইন বিশ্বসেরা এই ফুটবল ম্যাজিশিয়ান।




