আন্তজার্তিক ফুটবলে মেসি ও রোনালদোর পরে যার অবস্থান। সুনীল ছেত্রী আন্তজার্তিক অঙ্গনে কতটা পরিচিত সেটা অজানা, তবে ফিফার নানা রেকর্ডের পাতায় যে এই খেলোয়াড়ের নাম আছে। ভারতের ব্যাঙালুরে জন্ম নেওয়া এই ফুটবল তারকা দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলের এক বড় ব্রান্ড। অন্তত দক্ষিণ এশিয়ান অঞ্চলে তার মত গোল স্কোরার দেখেনি কেউ।
সেই সুনীল ছেত্রী খেলা ছেড়েছিলেন আগেই৷ গত বছর ১৬ মে কুয়েতের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই জানিয়েছিলেন ফুটবলকে বিদায়। এরপর ফিফা র্যাংকিংএ ১২৬ এ থাকা ভারতীয় দল খেলেছে আরো ৫ ম্যাচ। সেই ৬ ম্যাচ পর আবারো অবসর ভেঙে ফিরছেন ছেত্রী। সেই ছেত্রীকে নিয়ে এবার বাংলাদেশের বিপক্ষেই প্রথম মুখোমুখি হবে ভারতীয় দল।
অনেকেই বলছেন হামজা চৌধুরি বাংলাদেশ দলে যোগ দেবার জন্য ছেত্রী ভেঙেছেন অবসর। যুক্তি তর্কে অসম্ভবও না বিষয়টি। হামজা চৌধুরির যে গতি ও টেকনিক রয়েছে, ভারতীয় দলে থাকা কোন উইঙ্গার বা স্ট্রাইকারের তাকে পরাস্ত করা সম্ভব নয়। সেখানে ভারত চাইবে হামজার বিপক্ষে নিজের সেরা অস্ত্রটাই ব্যাবহার করতে। হামজা বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ান ব্রান্ড, সেখানে নিজেদের ব্রান্ডকেই তুলে ধরে মাইন্ড গেমটাও খেলতে চাইতে পারে ভারত।
তবে এর বাইরেও ছেত্রীর ফেরার আছে নানা কারণ। বাস্তবতা বলছে বর্তমান ভারতীয় দলকে খাদের কিনারা তাকে বাচাতেই আবারো ফিরছেন ছেত্রী। ছেত্রী যাওয়ার পর ভারত দল মোট ম্যাচ খেলেছে ৫ টি। এই ৫ ম্যচে একবারের জন্যও জয় পায়নি ভারত। এর মাঝে ২ ম্যাচ হারে দলটি, ড্র করে ৩ ম্যাচে।
এই সময়ে ভারত আক্রমণভাগে আলী, ব্রান্ডল ফার্নান্দেজ, লিস্টন কোলাচো, চাংতে সহ আরো অনেক ফরোয়ার্ডকে ট্রাই করেছেন। তবে কেউই ভারতকে ফল এনে দিতে পারেনি। অগত্য বাধ্য হয়ে সুনীলকেই ফিরিয়ে আনতে হলো ভারতকে।
৪০ এ পা দিলেও সুনীল ঘরোয়া লীগে এখনও ভারতের সেরা পারফর্মার। এই মৌসুমে ১২ গোল লীগে সুনীলের, যা আইএসএলেএ এই আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোল। এছাড়া বরাবরের মত ভারতীয়দের মাঝে সেরা অবস্থানে আছেন ছেত্রী। এমন একজনকে দলের দুসময়ে ফিরিয়ে আনতে চাইবেন যেকোন কোচ।
তবে যে কারণেই হোক, বাংলাদেশের জন্য ভয়ঙ্কর হতে পারেন ছেত্রী। আরেকদিকে ছেত্রী ও হামজার লড়াই যোগ করতে পারে ম্যাচে অন্যরকম এক মাত্রা।




