ব্রাজিল বনাম আর্জেন্টিনা ম্যাচ যেন কিছু সময়ের অপেক্ষা। নিজেদের পরবর্তী ম্যাচেই মুখোমুখি হবে দুই দল। এর মাঝে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে নিজেদের শুরুর ম্যাচ জিতে দুই দলই আছে ফুরফুরে মেজাজে। তবে ইঞ্জুরি সমস্যা আছে দুই দলের মাঝেই। আছে সাসপেনশনেরও সমস্যা। এতকিছুর মাঝেও জমজমাট লড়াই দেখার প্রত্যাশা সবার।
ডিবক্সের বাইরে থেকে ডান পায়ের দুরপাল্লার শট, যে শট ডিফেন্সকে পরাস্ত করার সাথে পরাস্ত করে প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককেও। আর তাতেই আসে ম্যাচ নির্ধারণই গোল। আর্জেন্টিনার আলমাদা ও ব্রাজিলের ভিনিসিয়াস, দুইজনের গল্পটা একই। তবে আগামী ম্যাচে দুইজনই চাইলে হতে পারবেন না একই গল্পের নায়ক।
প্রতীক্ষার পালা শেষের দিকে, আর কোন ম্যাচের অপেক্ষা নয়। ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা দল মুখোমুখি হবে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচেই। শত বছর পুরোনো সেরা দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের দেখতে আর অপেক্ষা করতে পারছেনা দর্শকরা। ২০২৩ সালের পর আবারো মুখোমুখি লড়াইয়ে নামবে দুই দল।
এই লড়াইয়ে কে থাকবে এগিয়ে। আর্জেন্টিনা দলের থাকবে কিছু বাড়তি সুবিধা। এওয়ে ম্যাচে উড়ুগুয়েকে হারানো আর্জেন্টিনার থাকবে আলাদা আত্মবিশ্বাস। সেখানে হোম ম্যাচে ব্রাজিলকে আতিথ্য দিবে তারা। অপরদিকে আর্জেন্টিনার কাছে হোম ম্যাচ হেরেছে ব্রাজিল, চাপ থাকবে তাদেরও। এর বাইরে মাষ্টার ট্যাক্টিশিয়ান লিওনেল স্কালোনি ডাগআউটের লড়াইয়ে থাকবেন এগিয়ে।
নিজের কাছে থাকা অস্ত্র দিয়েই সেরা লড়াইটা করতে পারেন এই আর্জেন্টাইন। ফলে যে অবস্থায়ই থাকুক না দল, এই মুহুর্তেও ব্রাজিলকে সর্বোচ্চ থ্রেট দিতে পারে আর্জেন্টিনা দল।
তবে আলভিসেলস্তাদের অস্বস্তির জায়গাও আছে। মাঝমাঠ দুর্বল হয়েছে দলের, আক্রমণভাগেও কমেছে তার। স্কালোনির দল ডমিন্যান্ট ফুটবল থেকে সরে এসেছে। এই কৌশল ব্রাজিলের বিপক্ষে কার্যকর হলে ভুগতে হতে পারে দলকে।
ভিনি, রদ্রিগো, রাফিনহার মত তারকাদের পায়ে বেশিক্ষণ বল দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যাবেনা। এর বাইরে আগে থেকেই একাধিক ইঞ্জুরি সমস্যা আছে দলের, এর সাথে যুক্ত হয়েছে নিকো গঞ্জালেসের সাসপেনশন। তাই মোটেও সহজ কিছু হবেনা আর্জেন্টিনার জন্য।
বিপরীতে টানা দুই জয়ের আশাই করবে সেলেসাওরা। আক্রমণভাগ ফর্মে আছে, ট্যাক্টিশিয়ান হিসেবে বড় নাম না কামালেও সাব দিয়ে সবার নজর কেড়েছেন ডরিভাল জুনিয়ার। শেষ ম্যাচে ওয়েসলি, স্যাভিওদের নামিয়ে ম্যাচের ফল বদলে দিয়েছেন। দলে যেকোন পজিশনের জন্য আছে দারুণ দারুণ সব অপশন। এমন অবস্থায় ব্রাজিল তাই সেরা ফলটা পেতেই নামবে মাঠে।
তবে শেষ ম্যাচে মুল দলের ৪ গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিটকে যায় ব্রাজিলের। যার সবচেয়ে বেশি ফল ব্রাজিলকে ভুগতে হতে পারে মাঝমাঠে। এমনিতেই মাঝমাঠ দুর্বল ব্রাজিলের, এর বাইরে দলের সেরা দুই মিডফিল্ডার গার্সন ও ব্রুনো গিমারেজ ছিটকে গেছেন আর্জেন্টিনা ম্যাচ থেকে।
দলে এডারসন, জোয়াও গোমেজরা এলেও চিন্তার ভাজ থাকবে ব্রাজিলের। বিশেষ করে বিপক্ষ দলের মাঝমাঠে আছে এঞ্জো, ম্যাক এলিস্টার, পারাদেসরা, আছে আলমাদার মত ক্রিয়েটিভ একজন। তাই এই জায়গা নিয়ে আলাদা প্লান করতে হবে ডরিভাল জুনিয়ারকে।
ফূটবলের জয় পরাজয় কেউ বলে দিতে পারেনা। আর এমন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের লড়াই যেটা অসম্ভব। একই সাথে বর্তমান পরিস্থিতিতে কাউকে এগিয়ে রাখাও সম্ভব নয়। তবে এক দারুণ লড়াই যে দেখতে পাবে বিশ্ববাসী, তাতে নেই কোন সন্দেহ।




