ভবিষ্যতের মেসি হিসেবে তারকাখ্যাতি পেয়েছেন। সুযোগটা এলো এমন সময়, যখন দলে নেই লিওনেল মেসি। আর সেই সুযোগের পুর্ণ ব্যাবহারটাই করলেন থিয়োগা আলমাদা। উড়ুগুয়ের বিপক্ষে আলমাদাই বদলে দেন ম্যাচের চিত্র।
নিজ হাত নাড়িয়ে এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ইঙ্গিত দিলেন, কিছু একটার তাপ এসে লেগেছে তার কাছে। প্রায় ১২০ গজ দূর থেকেও এমি আচ পেয়েছেন, যে কারণে নেড়েছেন হাত। এমির রিয়াকশনের মত গোলটাকে যদি আগুণ বলা হয়, খুব বেশি ভুল হবার কথা নয়। যে গোলই আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছে জয়, আর আলমাদাকে চিনিয়েছে নতুন করে।
উড়ুগুয়ের এস্তাদিও ক্যান্টিনিওতে বিয়েসলরা দলের সামনে আর্জেন্টিনা। কোচ স্কালোনির সৈনিকদের একের পর এক ইঞ্জুরি। যে ইঞ্জুরিই শেষ পর্যন্ত সাপে বর হলো স্কালোনির। কেননা স্কোয়াডেই আলমাদার নিয়মিত সুযোগ মেলেনা। এখন পর্যন্ত আর্জেন্টিনার হয়ে ম্যাচ শুরু করেননি এর আগে। তাই মুল খেলোয়াড়রা থাকলে বদলি হিসেবে শেষের দিকে দেখা গেলেও যেতে পারত আলমাদা। তবে স্কালোনি “ blessing in curse “ টাই শেষ পর্যন্ত গড়ে দেয় ম্যাচের ব্যাবধান।
লিও এর আলমাদা এদিন পুরোটাই হয়ে যান আর্জেন্টিনার। আকাশী নীল জার্সি গায়ে দিয়ে লিওনেল মেসিকেই মনে করান আলমাদা। পুরো ম্যাচে আক্রমণভাগেই আলমাদা ছিলেন অনবদ্য। আলভারেজ, সিমিওনেদের সাথে রসায়নটা ছিল দুর্দান্ত। যে কারণে খুব বেশি আক্রমণ না করলেও প্রতিপক্ষের ভয় ধরিয়ে দেয় আর্জেন্টিনা।
সেটার ফল পেতেও সময় লাগেনি তাদের। ম্যাচের ৬৮ মিনিটে হুলিয়ান আলভারেজের বাড়ানো পাস, জায়গা তৈরি করে ডান পায়ের শট। এরপর ভালভার্দে, আরাউহোদের চেহারা বলে দেয় এর ফল। একদিকে ম্যাচে দুর্দান্ত খেলা উড়ুগুইয়ান গোলরক্ষক রচেট পরাস্ত হন, আর আগুণের ছাপ লাগে এমির গায়ে। মনে মনে হয়ত ভাবছিলেন, প্রতিপক্ষে দলে ভাগ্যিস আলমাদা নেই।
৯৪ ভাগ হারে ৩৪ পাস, ২ টি সফল শট। ৬ বার ফাইনাল থার্ডে পাস, ৯ বার রিকভারিস, ২ বার ডুয়েলস জয়। আলমাদা, আর্জেন্টিনার হয়ে এদিন ছবির মত নিখুত। এমন দিনে গোল না পেলেও বরং থাকত অসম্পুর্ণ, সৃষ্টিকর্তা পুরণ করলেন সেই সাধ।
কিছুদিন আগে এক সাক্ষাৎকারে স্কালোনি বলেন ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য তরুণদের এখনই প্রস্তত করতে চান তিনি। আলমাদা ২০২২ বিশ্বকাপে ছিলেন, তবে সোনার ট্রফি ছুলে খুব বেশি অবদান রাখার সুযোগ ছিল না। ২০২৬ সালে অবশ্য প্রেক্ষাপট এমন হবেনা তার জন্য। আক্রমণভাগে এই আলমাদাই হবেন ভরসার নাম। আরো বড় করে আশা করা যায়, মেসি পরবর্তী যুগে আলমাদাই হবেন আর্জেন্টিনার ছোট মেসি। অন্তত পুর্বাভাস তো সেটাই বলে।




