ফান্দে পড়ে বগা কান্দেরে! বাংলার বিখ্যাত এই উক্তি ব্যাবহার হয় তখনি যখন চারদিক থেকে কোনো ব্যাপারে আটকে পড়েন কেও।
অবশ্য তেমনই হয়েছে বিসিবির বর্তমান সভাপতি ফারুক আহমেদের ক্ষেত্রে।
৫ আগষ্টে দেশের পটভুমি পরিবর্তনের পর,সরকারের ইচ্ছেতেই ফারুক আহমেদ বসেছিলেন বিসিবি সভাপতির চেয়ারে।
তবে সেই চেয়ারের উষ্ণতা যেন বড্ড বেশিই ছিলো ফারুক আহমেদের জন্য।
একের পর এক অভিযোগে বেহাল দশা হয়েছে তার।
গত রাত থেকেই খবর পদত্যাগ করতে পারেন তিনি,এরপর তিনি তাতে রাজি নাহলে এবার খবর বেড়িয়ে এলো,বাকি সব পরিচালকরাই তার বিপক্ষে! বর্তমানের ৯ পরিচালকের মধ্যে সরকারকে চিঠি দেওয়া ৮ পরিচালক হলেন, নাজমুল আবেদিন ফাহিম, মাহবুব আনাম।
এছাড়া ফাহিম সিনহা, সাইফুল ইসলাম স্বপন চৌধুরি, ইফতেখার রহমান মিঠু তাছাড়াও কাজী ইনাম আহমেদ, মঞ্জুর আলম এবং মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন চৌধুরি। তবে ফারুকের পদত্যাগ চাওয়া পরিচালকদের তালিকায় নেই আকরাম খান।
বুধবার রাতে বিসিবি সভাপতিকে তলব করেছিলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া।
সেখানেই ফারুক আহমেদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা হয়। জানিয়ে দেয়া হয়, তাকে আর ক্রিকেট বোর্ডে চায় না ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
দায়িত্ব নেবার পর থেকেই সমালোচনায় বিদ্ধ ফারুক আহমেদ।
বিপিএলে রাজশাহী ও চিটাগং ফ্র্যাঞ্চাইজির পেমেন্ট ইস্যু, ম্যাচ ফিক্সিং, বিসিবির অর্থ স্থানান্তর, জাতীয় দলের বাজে পারফরম্যান্স, অন্য বোর্ড কর্তাদের সঙ্গে বাজে আচরণসহ বহু অভিযোগ ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে।
তবুও বিসিবি সভাপতি হিসেবে তাঁর সুনির্দিষ্ট ব্যর্থতা উল্লেখ না করায় আজ বিকেল পর্যন্ত পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তেই অটল তিনি,এক সংবাদ মাধ্যমকে বলেন ‘আমাকে আমার ব্যর্থতার কথা বলতো, তাহলে বুঝতাম যে আমি কোথায় কোথায় ভুল করেছি।
কিন্তু সেসব কিছুই নয়। আমাকে শুধু বলা হয়, ওপরমহল আমাকে আর চাইছে না। আমি কোনো ক্রিকেটীয় কারণ এর মধ্যে খুঁজে পাইনি।
তাই পদত্যাগ করারও কোনো কারণ দেখছি না।
কারণ না থাকলে আমি কেন পদত্যাগ করতে যাবো।’
‘ ‘
পদত্যাগের পেছনে ফারুক ষড়যন্ত্রও দেখছেন। তাঁর অভিযোগের তীর বিসিবির পরিচালনা পর্ষদে তাঁর কয়েকজন সহকর্মীর দিকেও,তিনি বলেন ‘বিসিবিতে দুদক ঢোকার পর থেকেই ষড়যন্ত্র চলছে। তৃতীয় বিভাগ বাছাই ক্রিকেটের কেলেঙ্কারিতে এই বোর্ডেরই পরিচালকদের একাংশের জড়িত থাকার ব্যাপারটি দুদকের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। বিপিএলে টিকিট বিক্রির রেকর্ড হলো।
অথচ এই বোর্ডেরই একজন পরিচালক আগের সিস্টেমে টিকিট বিক্রি করতে চেয়েছিলেন।
সেভাবে করলে আগের মতোই কাড়ি কাড়ি টাকা বিসিবির বেহাত হয়ে যেত। আমি সেটি হতে দেইনি। এরাই এখন ষড়যন্ত্র করছে।’
অবশ্য ফারুক যাই বলুক,খুব শীঘ্রই যে তার পেছন থেকে চেয়ার চলে যাচ্ছে তা অনেকটাই নিশ্চিত!




