আগামীকাল শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে উড়াল দিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। খেলবে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ—যার সূচনা হবে টেস্ট দিয়ে।
সফরে রয়েছে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ। কিন্তু সফরের প্রথম ধাপে, মানে লাল বলের লড়াইয়ে নিয়ে বেশ জটিল সমীকরণে পড়েছে নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট।
টেস্ট স্কোয়াডে রাখা হয়েছে চার পেসার: এবাদত হোসেন, হাসান মাহমুদ, খালেদ আহমেদ ও নাহীদ রানা।
তবে বাস্তবতা হলো—একাদশে জায়গা পাবেন সর্বোচ্চ ২ থেকে ৩ জন। এ অবস্থায় কে থাকবেন মাঠে, আর কে বসে থাকবেন সাইড বেঞ্চে
— বিস্তারিত কাজী আরাফাতের রিপোর্টে ।
বিশ্লেষক এবং ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, যদি দল দুজন পেসার নিয়ে মাঠে নামে, তাহলে হাসান মাহমুদ এবং নাহীদ রানা হতে পারেন অটোমেটিক পছন্দ।
হাসান মাহমুদের ধারাবাহিকতা সাম্প্রতিক সময়ে নজর কেড়েছে। অন্যদিকে, নাহীদ রানার গতি ও অ্যাগ্রেশন বর্তমান বাংলাদেশ পেস ইউনিটের মধ্যে আলাদা মাত্রা এনে দিয়েছে। ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ ছন্দে ছিলেন, প্রস্তুতি ম্যাচেও উইকেট তুলে নিয়েছেন ধারাবাহিকভাবে।
এই যদি হয় ২ পেসার তাহলে তৃতীয় পেসার কে? এবাদত নাকি খালেদ?
যদি তিন পেসার নিয়ে খেলে বাংলাদেশ, তাহলে তৃতীয় পেসার হিসেবে জায়গার জন্য মূল লড়াই হবে এবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদ এর মাঝে।
টিম ম্যানেজমেন্টের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, কন্ডিশনের উপর ভিত্তি করে তৃতীয় পেসারের নাম ঠিক করবেন কোচ ও অধিনায়ক শান্ত।
শ্রীলঙ্কার উইকেট ঐতিহ্যগতভাবে স্পিন সহায়ক হলেও, গলে এবং পাল্লেকেলেতে পেসারদের সহায়তা মিলতে পারে প্রথম দুই দিনে।
এই ভাবনা থেকে তিন পেসার খেলানোর সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে, স্কোয়াডে চার স্পিনারও থাকায় (তাইজুল, মিরাজ, নাসুম ও নাঈম), ম্যানেজমেন্ট ব্যালেন্স রক্ষার জন্য দুই পেসার + দুই স্পিনার ফরম্যাটে যেতে পারে।
“হাসান মাহমুদ এখন দলের প্রধান পেস অস্ত্র হয়ে উঠেছেন।
তার পাশাপাশি নাহীদ রানার গতি প্রয়োজন। তৃতীয় পেসার হিসেবে এবাদতকে এগিয়ে রাখা জায় অভিজ্ঞতার কারণে।
অন্যদিকে খালেদ এমন একজন বোলার যিনি ম্যাচের গভীরে গিয়ে উইকেট এনে দিতে পারেন। সেটা উপেক্ষা করা ঠিক হবে না।”
বাংলাদেশের পেস ডিপার্টমেন্টে এখন সুস্থ প্রতিযোগিতা। এটা দলের জন্য আশীর্বাদ হলেও, নির্বাচকদের জন্য কঠিন পরীক্ষা।
কাল থেকে শুরু হবে ভ্রমণ, আর এরপর অনুশীলন সেশনে চূড়ান্ত হবে একাদশের পেস অপশন।
চোখ থাকবে কার দিকে? হাসান-নাহীদ পছন্দের তালিকায় থাকলেও, এবাদত বনাম খালেদ যুদ্ধটা জমে উঠবে একাদশ চূড়ান্ত হওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত।




