ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে দারুণ সূচনা করেও শেষ পর্যন্ত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারলো না ইন্টার মায়ামি।
উরুগুয়ের তারকা লুইস সুয়ারেজ এবং আর্জেন্টিনার তরুণ তাদেও আলেন্দে গোল করে দলকে এগিয়ে নিলেও শেষ ১০ মিনিটে দুই গোল হজম করে পামেইরাসের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করে ‘হেরন’রা।
এই ফলাফলে গ্রুপ এ-র দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ ষোলোতে উঠেছে মায়ামি। তবে গ্রুপে পয়েন্ট হারিয়ে অনেকটাই আত্মবিশ্বাসে ধাক্কা খেয়েছে তারা।
জাভিয়ের মাচেরানোর কোচিংয়ে এই দলটিকে নিয়ে শুরুতে তেমন প্রত্যাশা ছিল না।
কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের কাছে হেরে ছিটকে যাওয়ার পর অনেকে ভেবেছিল মেসি-সুয়ারেজদের এই দল বেশিদূর যেতে পারবে না।
কিন্তু বাস্তবে তারা অপরাজিত থেকে শেষ ষোলোতে উঠে সবাইকে চমকে দিয়েছে।
শেষ ষোলোতে ইন্টার মায়ামির প্রতিপক্ষ প্যারিস সেন্ট-জার্মেই! অর্থাৎ, লিওনেল মেসির সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে মুখোমুখি হবেন তিনি।
অনেক আবেগ জড়িয়ে এই লড়াইয়ে। শুধু মেসি নন, কোচ লুইস এনরিকের সঙ্গে সম্পর্কও অনেকের।
তবে মাঠে কোনও সম্পর্কের জায়গা নেই—এই ম্যাচ যে হাড্ডাহাড্ডি হবে তা বলাই বাহুল্য।
ম্যাচে একটি হলুদ কার্ড দেখেছেন মেসি। এখন যদি পিএসজির বিপক্ষে আরেকটি কার্ড দেখেন, তবে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলতে পারবেন না।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, দুটি হলুদ কার্ড মানেই এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা। ফলে মেসিকে এখন অনেক সাবধান হয়ে খেলতে হবে।
এই ম্যাচে সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক ছিল সুয়ারেজের পারফরম্যান্স।
একটি অসাধারণ কাউন্টার অ্যাটাক থেকে আলেন্দের প্রথম গোলের সুযোগ তৈরি করেন তিনি।
এরপর ৬৫তম মিনিটে নিজেই গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এটাই ছিল তার এবারের টুর্নামেন্টে প্রথম গোল।
গোলের পাশাপাশি ডিফেন্সে নেমেও সাহায্য করেছেন সতীর্থদের। মাচেরানো এই ম্যাচে ৪-৪-২ ফরমেশন খেলিয়ে সুয়ারেজ-মেসিকে আক্রমণের মূল দায়িত্ব দেন। দুজনের বয়স বেশি হলেও অভিজ্ঞতায় তারা এখনও অমূল্য।
৮০ মিনিট পর্যন্ত সব ঠিকঠাক থাকলেও শেষ মুহূর্তে দুই গোল হজম করে ড্র করে বসে মায়ামি। এই ঢিলেমিটাই যেন লজ্জার।
ফিটনেসের ঘাটতি, একাধিক পরিবর্তন, মনোযোগের অভাব—সব মিলিয়ে সম্ভাব্য জয়টা হাতছাড়া হয়ে গেল।
এরকম মুহূর্তে অভিজ্ঞতার জয় হয়, কিন্তু সেখানে গলদ ছিলই।
তবে একথাও ঠিক, প্রথমবারের মতো ক্লাব বিশ্বকাপে খেলে এমন পারফরম্যান্স অনেককেই অবাক করেছে। এখন মেসি, সুয়ারেজ, ও অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে যদি আরও কয়েক ধাপ এগোতে পারে, তবে সেটাই হবে মাচেরানোর জন্য বড় এক বিজয়।
তবে PSG’র বিপক্ষে ম্যাচে ভুল করার সুযোগ নেই। ভুল মানেই বিদায়।




