বাংলাদেশ ক্রিকেটের পুরনো রোগ—ঘরোয়া ক্রিকেটে ‘রান-গুরু’, আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাঠে নামলেই গরুর গাড়ির গতিতে ব্যাট চালানো।
এই তালিকার সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম নিঃসন্দেহে এনামুল হক বিজয়।
এমন এক ব্যাটার যিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে শাসন করেন যেমনে এক বেপরোয়া বাঘ, কিন্তু জাতীয় দলে এলেই হয়ে যান এক অগোছালো, চঞ্চল বিড়াল।
আজকের ম্যাচেই তার পারফরম্যান্স যেন ব্যর্থতার জীবন্ত বিজ্ঞাপন।
১০ বল খেলে শুন্য রানে বিদায়। ব্যাটিং দেখে বোঝার উপায় ছিল না, তিনি দেশের প্রথম সারির ডানহাতি ওপেনার!
যেন এক তরুণ, যার হাতে প্রথমবার তুলে দেওয়া হয়েছে ব্যাট।
না ছিল আত্মবিশ্বাস, না ছিল কোনো পরিকল্পনা। ইনসাইড এজ হয়ে বোল্ড—একজন পরিণত ব্যাটারের জন্য লজ্জার চিত্র।
এর আগে অবশ্য জীবন পেয়েছিলেন একবার। উইকেটের পেছনে খোঁচা দিয়ে ধরা পড়লেও কুশল মেন্ডিস হাতে রাখতে পারেননি।
পরের বলেই আবার অল্পের জন্য স্লিপে পড়া থেকে বেঁচে যান। কিন্তু বাঁচার পরও যে বাঁচিয়ে খেলতে হবে—সেই বোধও যেন অনুপস্থিত বিজয়ের ব্যাটে।
পরিসংখ্যান জ্বলজ্বল করে ব্যর্থতার ইতিহাস বলছে:
টেস্টে ১4 ইনিংসে মোট রান মাত্র ১৪৩। গড় মাত্র ১0-এর নিচে ৯.৬৬। ফিফটি নেই, সেঞ্চুরির প্রশ্নই ওঠে না।
চার মেরেছেন ১৮টি, ছক্কা একটিও না। প্রশ্ন উঠছে—এই পারফরম্যান্স নিয়েও এতবার সুযোগ পেয়ে যান কীভাবে?
এটা কি জাতীয় দলে ‘ভাগ্যবান’ হওয়ার পুরস্কার, নাকি নির্বাচকদের ‘ঘরোয়া রানের মোহে’ বারবার হার মানা?
বিজয়ের মানসিক প্রস্তুতি নিয়েও উঠছে বড় প্রশ্ন। মাঠে নামলেই যেন চাপে কুঁকড়ে যান। বল খেলেন না বুঝে, শট খেলেন না দেখেশুনে।
বোলাররা যখন চাপ বাড়ায়, বিজয় তখন নিজের গর্তে ঢুকে পড়ে। ব্যাটিং স্টান্স থেকে শুরু করে শট নির্বাচন—সবই এলোমেলো।
এক কথায়, ‘উঠতি খেলোয়াড়’ মনে হলেও ভুল হবে না। অথচ তিনি প্রায় এক যুগ ধরে জাতীয় দলে ঢুঁ মারছেন!
ঘরোয়া ক্রিকেটে কি তবে মেকি প্রতিযোগিতা চলছে? বিজয়ের মতো খেলোয়াড়রা যখন ঘরোয়া ক্রিকেটে রাজত্ব করে, তখন প্রশ্ন জাগে—এই লিগগুলোতে কি সত্যিকার মানের বোলিং বা ফিল্ডিং প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই?
নাকি বল হাতে থাকা বোলাররা নিজেরাই জানেন, এই উইকেটে ‘কেউই আটকায় না’? এমন হলে ঘরোয়া রানের ভিত্তিতে জাতীয় দলের জন্য ক্রিকেটার বাছাই করাটাই হয়ে উঠছে এক ধরনের ভাঁওতাবাজি।
বিজয়ের ব্যর্থতা শুধু তার একার নয়—এটা পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থার আয়না।
একজন খেলোয়াড় বারবার ব্যর্থ হলেও যিনি সুযোগ পেয়ে যান, তিনি একা দায়ী নন।
নির্বাচকরাও কম দায়ী নন। তরুণদের মধ্যে প্রতিভা থাকলেও, পুরনো চেনা মুখ দেখে চোখে পড়ে যেন এক ‘বিশ্বাসের ফাঁদ’।
প্রশ্ন উঠতেই পারে—এমন একজনকে জায়গা দিয়ে দল কি তরুণদের সুযোগ সংকুচিত করছে না?
এনামুল হক বিজয়ের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এখন ব্যর্থতার অভিধানে রূপ নিয়েছে।
এতবার সুযোগ পেয়েও নিজেকে প্রমাণ করতে না পারলে, কেবল ঘরোয়া রানের দোহাই দিয়ে আর কতদিন তাকে জায়গা দেওয়া হবে?
সময় এসেছে নতুনদের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়ার। জাতীয় দলের জার্সি ‘উপহার’ নয়, এটি অর্জনের বিষয়।
বিজয়ের জন্য হয়তো এখন দরকার জাতীয় দলে জায়গা নয়, বরং নিজের ব্যাটিংটা নতুন করে শিখে নেওয়ার সময়।
কারণ ‘রানের পাহাড়’ গড়েও যদি বড় মঞ্চে হাঁটু কাঁপে, তবে সেই রান শুধুই ফান!




