চুক্তি মেয়াদ বাকি ছিল সপ্তাহখানিকের মত। এর মাঝে অন্যান্য ক্লাব থেকেও এসেছিল প্রস্তাব।
শোনা যাচ্ছিল ক্লাব বোধহয় ছাড়বেন নেইমার জুনিয়ার। নেইমার ক্লাব ছাড়লেন না, বরং ক্লাবের মায়ায় বাধলেন নিজেকে আরো কিছুদিন।
৬ মাসের জন্য সান্তোসে এসেছিলেন, সেটাকে আরো ৬ মাস বাড়ালেন। এই ব্রাজিলিয়ানের যে আছে আলাদা ভাবনা।
৩৩ এর নেইমার অবশ্য বললেন তিনি শুনেছেন হৃদয়ের কথা। বিশ্বের কোটি মানুষের হৃদয়ে আছেন এই ব্রাজিলিয়ান নাম্বার টেন।
আর নেইমারের হৃদয়ে অবস্থান সান্তোস। যে কারণে সান্তোসের সাথেই নিজের পথচলা বাড়াতে চাচ্ছেন তিনি।
সেই উপ গানের মত করে সান্তোস বলেছিল বোধহয় “ থেকে যাওনা, আরো চাওনা”। আর সেই দাবিতেই থেকে গেলেন নেইমার।
সান্তোসকে ঘিরে নেইমারের লম্বা স্ততি। একজন বালক থেকে একজন পুরুষ হয়েছেন এই ক্লাবে, সেই গল্প বললেন।
সান্তোসকে বললেন নিজের ঘর, শিকড় ও ইতিহাস হিসেবে। নিজের অপুর্ণ ইচ্ছা সান্তোসেই শেষ করতে চান তিনি।
তিনি সান্তোসে থেকেছেন, ছেড়েছেন। তবে তার ভালোবাসায় ও খুশিতে শুধুই সান্তোস।
শুধু ভালোবাসা নয়, ভবিষ্যতের অপুর্ণ ইচ্ছায় সান্তোসকেই পছন্দ নেইমারের। এই মুহুর্তে ইঞ্জুরি সমস্যা কিছুটা হলেও আছে নেইমারের।
ফলে বড় ক্লাবে গেলেও যদি ইঞ্জুরিতে আক্রান্ত হন, সেক্ষেত্রে বেঞ্চে হতে পারে নেইমির জায়গা।
বিশ্বকাপের আগে পর্যাপ্ত প্লেয়িং টাইম দরকার নেইমারের। সে কারণে সান্তোসেই দরকার তাকে। ইঞ্জুরিমুক্ত হিসেবে যতটা সময় পাবেন, পুরোটা সান্তোসে খেলতে পারবেন তিনি। ফলে নিজেকে শারীরিকভাবে ফিটের পাশাপাশি গেমের জন্য ফিট হিসেবে বিবেচিত করতে পারবেন ব্রাজিলের জন্য।
দ্বিতীয়ত আগামী বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে ২০২৬ সালে। এই জুনেই হবে বিশ্বকাপ শিরোপা। সেখানের আবহাওয়া ইউরোপের আবহাওয়ার চেয়ে আলাদা।
যে কারণে এবারের ক্লাব বিশ্বকাপে সফলতা পাচ্ছে ব্রাজিলের ক্লাবগুলো। এই জিনিসও হয়ত আছে নেইমির মাথায়। ব্রাজিলের আবহাওয়া আমেরিকার বর্তমান আবহাওয়ার সাথে সামাঞ্জস্যপুর্ণ।
ফলে ব্রাজিলিয়ান লীগে খেললে আমেরিকার মাঠে খেলার জন্য উপর্যুক্ত থাকতে পারবেন তিনি। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে যা তাকে দিবে বাড়তি প্রেরণা ও বিশ্বাস।
ব্রাজিল দলে ভিনি, রাফিনহারা আছেন। কিন্ত নেইমারের অপুর্ণতা এখনও ব্রাজিল দলে আছে।
নেইমার জুনিয়ারকে নিয়েই ২০২৬ সালে নিজেদের হেক্সা মিশন পুরণ করতে চাইবে ব্রাজিল। সেটা হয়ত জানেন নেইমি নিজেও, যে কারণেই এবার সান্তোসের চুক্তিতে রাখলেন নিজের বিশ্বকাপ ভাবনার কথাও।




