মৃতপ্রায় বাংলাদেশ ফুটবল জীবিত হয় হামজার আগমণে। হামজার বাংলাদেশের হয়ে খেলা, তার আগমণে যেন ফুটবলে আসে মানুষের নজর।
কিন্ত ফুটবলটাকে বাংলাদেশের মানুষ আবার পুনরায় ধারণ করেন একজনের কল্যাণে। তিনি ফাহমিদুল ইসলাম।
১৮ বছরের ফাহিমুদল নজর কাড়েন বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার। ফলে তাকে জাতীয় দলে ডাকেন এই কোচ।
তাৎক্ষণিক ভক্তদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়, কে এই ফাহমিদুল ইসলাম।
ইতালিয়ান চতুর্থ স্তরে খেলা এই খেলোয়াড়কে দেখার জন্য মুখিয়ে থাকেন সবাই। কিন্ত শেষ মুহুর্তে দল থেকে তাকে বাদ দেন কোচ কাবরেরা।
ফাহমিদুলের বাদ পড়ায় জাগ্রত হয় সবাই। শুরু হয় ফুটবলকে ঘিরে আন্দোলন।
যে আন্দোলনে আবারো ফুটবলের জন্য এক হয় দেশের কোটি মানুষ। এরপর থেকেই নজর সব ফুটবলে। ফাহমিদুলও এসেছেন ফিরে, ফিরে এসে সবাইকে দেখিয়েছেন নিজের জাদু।
বাংলাদেশ দলের হয়ে ২ ম্যাচ খেলেছেন ফাহমিদুল। প্রথম ম্যাচে ভুটানের বিপক্ষে দারুণ কিছু চাঞ্চ ক্রিয়েট করেন।
বামদিক থেকে তার কল্যাণে একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে বাংলাদেশ। যেমন গতি,তেমনি তার ড্রিবলিং ও ফুটওয়ার্ক।
আক্রমণভাগে ডানদিকে এতদিন রাকিবের উপর ভরসা করত বাংলাদেশ, সেখানে এবার বামদিকে এসেছেন ফাহমিদুল।
সিঙ্গাপুর ম্যাচে বাংলাদেশ হারলেও সামিত সোমের সাথে ফাহমিদুল এর বোঝাপড়া ছিল দারুণ।
একাধিকবার গতি দিয়ে সিঙ্গাপুরের ডিফেন্সও পরাস্ত করেন। ডিবক্সের সামনে তাকে ফাউল না করলে হয়ত নিজের প্রথম গোলটাও পেতে পারতেন এই উইঙ্গার।
অবশ্য এর ফাকেও নিজেকে দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন ফাহমিদুল। ফাহমিদুলের জন্ম বাংলাদেশের ফেনি জেলায়। যদিও এরপর ইতালিতে চলে যান তিনি।
ইতালির দ্বিতীয় বিভাগের দুই দল স্পেজিয়া ও সাম্পদোরিয়ার ক্লাবে বড় হয়েছেন ফাহমিদুল। যে দুই ক্লাবই খেলেছে ইতালির সর্বোচ্চ স্তর সিরিআতে।
সাম্পদোরিয়ার অনুর্দ্ধ ১৮ দলের হয়ে দারুণই খেলছিলেন ফাহমিদুল। ২৫ ম্যাচে করেন ৪ গোল। কিন্ত এক ইঞ্জুরি কাল হয়ে দাঁড়ায় তার জন্য।
ফলে তাকে চলে যেতে হয় চতুর্থ স্তরে। সেখানে লিগরনা ও লিভরনা নামক দুটি ক্লাবে খেলেন মোট ৮ ম্যাচ। এরপর তাকে দলে ভেড়ায় আরেক ক্লাব অলবিয়া। যে ক্লাবের যুব দলের হয়ে হ্যাট্রিক করে আসেন আলোচনায়। ফলে মুল দলে ডাক পেতে সময় লাগেনি তার।
এর মাঝে মুল দলেই আছেন ফাহমিদুল। প্রস্তাব পেয়েছিলেন সিরিসি বা ইতালির তৃতীয় বিভাগ লীগের ক্লাবের থেকেও। তবে সেখানে না গিয়ে অলবিয়ার সাথে প্রস্তাব বাড়ান ফাহমিদুল। তবে যে পরিমাণ প্রতিভাবান ফাহমিদুল, তার সামনে দারুণ ভবিষ্যৎ আছে নিশ্চিত।
কেননা মাত্র ১৮ বছরেই মুল দলে নিয়মিত ফাহমিদুল। যদি নিজেকে আরো ইম্প্রুভ করতে পারেন, তবে সিরিবি তে আগামী দিনগুলোতে দেখার সম্ভাবনা ভালোভাবেই আছে তার।
১৯ এ পা দিয়েছেন ফাহমিদুল, তার থেকে প্রত্যাশাও বেড়েছে সবার।
আগামী দিনে সে প্রত্যাশা পুরণ করে নিজের ও দেশের উন্নতি করুক ফাহমিদুল, এটাই চাওয়া বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের।




