এক মুহুর্তের জন্য চমকে গিয়েছিল ভারতের কোচ সিলেকশন কমিটি। ফেসবুকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর ১৭০ টা আবেদন পড়েছে তাদের।
আছেন দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে কিছু হাই প্রোফাইল কোচ। কিন্ত একটা নাম দেখে অবাক হয়েছেন তারা।
তিনি আর কেউই নন, বার্সার অন্যতম লিজেন্ডারি ফুটবলার জাভি হার্নান্দেজ।
বার্সার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লীগ জয়ী ও স্পেনের বিশ্বকাপজয়ী মিডফিল্ডার। একই সাথে বার্সেলোনাকে লীগ শিরোপা জেতানো জাভি হার্নান্দেজ দায়িত্ব নিতে চান ভারত দলের।
যদিও শেষ পর্যন্ত ভারতের দায়িত্ব নেওয়া হয়নি জাভিকে। উচ্চ বেতন ও পরিকল্পনা অনেক কিছু মিল না হওয়ায় এই কোচকে না বলে দেয় ভারতীয় ফুটবল বোর্ড।
তবে একটা বিষয় এখানে স্পষ্টত হয়, দক্ষিণ এশিয়ান ফুটবলেও তবে নজর আছে বড় বড় কোচদের। কোন কিছুই তাই অসম্ভব নয়।
যেখানে জাভি কোচ হতে চান ভারতের, সেখানে বাংলাদেশ পড়ে আছে এক কাবরেরাতে।
স্পেনের অচেনা ও অনাভিজ্ঞ কাবরেরার প্রতি আস্থা রাখছে বাফুফে। অথচ বাংলাদেশের স্বর্ণালী দল পেয়েও কিছু করতে পারছেন না তিনি।
ভারতেক হারাতে ব্যার্থ হয়েছেন, ঘরের মাঠে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হারায়ও দায়ী তার বাজে ট্যাক্টিক্স।
খেলোয়াড় গঠনে অস্বচ্ছতা ও ব্যার্থতার দায় তার আছে ভালোভাবেই।
কিন্ত এরপরও বাফুফে থেকে এমন ভঙ্গি আসে, যেন কাবরেরাকে সরিয়ে দেওয়া অসম্ভব তাদের জন্য।
বাংলাদেশকে কোচিং করাবেনই না আর কোন কোচ। অথচ চাইলেই যে সব সম্ভব, সেটার উদাহরণ দিয়েছেন জাভি।
বর্তমানে বাংলাদেশের অনেকটা কাছাকাছি মানের দলের দায়িত্বও নিতে চেয়েছেন এই কোচ।
মনে হতে পারে ভারত বড় দেশ, দেশটির ফুটবলে বড় ইনভেস্টমেন্ট আছে। তাদের আইএসএলের মত লীগ হয়েছে, যেখানে রবার্তো কার্লোস, ফোরলানরাও এসেছিলেন। কিন্ত পাকিস্তান ফুটবল বাংলাদেশের চেয়ে বরাবরই দুর্বল। এর বাইরে লেগে থাকে নানা অস্থিরতা, বারবার পায় ফিফার নিষেধাজ্ঞা।
এমন দল নিয়োগ দিয়েছে নোলবার্তো সোলানোকে। ইপিএলের ক্লাব নিউক্যাসেলের হয়ে ২৩০ ম্যাচ খেলেছেন, খেলেছেন ওয়েস্ট হ্যাম, এস্টন ভিলা, লেস্টার সিটি, বোকা জুনিয়ার্সের মত ক্লাবে।
পেরুর বয়সভিত্তিক দলের কোচ হয়ে তাদেরকে অলিম্পিকে কোচিং করিয়েছেন। এমন একজনকে পাকিস্তান এনেছে তাদের মুল দলের দায়িত্ব নিতে।
ঘরের উদাহরণই একবার দেওয়া যাক। বাংলাদেশ নারী দলের দায়িত্বে আছেন পিটার বাটলার, যিনি একটা সময় খেলেছেন প্রিমিয়ার লীগের ক্লাব ওয়েস্ট হ্যামে, কোচিং করিয়েছেন অনেক ভালো জায়গায়।
সেই বাটলারের অধীনে কিভাবে পরিবর্তন হয়েছে নারী দলের, সেটা তো স্পষ্ট। প্রশ্ন হচ্ছে বাটলার নারী দলে আসতে পারলে, সোলানো পাকিস্তানে আসতে পারলে, জাভি ভারতে আসতে চাইলে বাংলাদেশকে কেন পড়ে থাকতে হবে কাবরেরার কাছেই।
এই মুহুর্তে বাংলাদেশ দলে ম্যাচ ঘোরানোর মত ফুটবলার আছে। কিন্ত তাদের ব্যাবহার করার নেই কোচ। ভক্তরা তাই দোয়াই করতে পারে শুধু, শীঘ্রি সুবুদ্ধি হোক বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের।




